বিলগেটস এর এই টিপস গুলি মেনে চললে আপনিও হতে পারেন সফল ব্যাক্তি

7
বিলগেটস এর এই টিপস গুলি মেনে চললে আপনিও হতে পারেন সফল ব্যাক্তি

জীবনে সফল হতে কে না চায়? পড়াশোনা হোক কিংবা চাকুরী ক্ষেত্র, সফলতা সবক্ষেত্রেই কাম্য। তবে চাইলেই কি আর সব ক্ষেত্রে সফল হওয়া যায়? সফলতার পথে বাধা যে অনেক! তবে ধৈর্য এবং সাহস সঙ্গী করে যারা শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারেন, সফলতার মুকুট তাদের মাথাতেই শোভা পায়। এ সম্পর্কে দেশের সবথেকে ধনী এবং সফল ব্যক্তি বিল গেটস কি বলছেন, আসুন দেখে নেওয়া যাক।

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস নিজের বিভিন্ন ইন্টারভিউ, বক্তৃতা এবং বইয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে সফলতার চাবিকাঠির হদিস দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য সফলতার দশটি মন্ত্রের উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রথমত, দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। মাথায় কোনো কাজের আইডিয়া এলে তা ফেলে রাখলে চলবে না। যত দ্রুত কাজ শুরু হবে, ততো তাড়াতাড়ি সফলতার দিকে এগোনো সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে সর্বদা নিজের সেরাটা দিতে হবে। কারণ সময় সর্বদা বয়ে চলে। তাই প্রতিটি মুহূর্তকেই যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। তৃতীয়ত, না বলতে শেখা। এটিও সফলতার অপর একটি মন্ত্র। কারণ আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, দিনে ২৪ ঘন্টার থেকে বেশি সময় পাওয়া যাবে না। তাই এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোন কাজ করব, এবং কোন কাজ করবো না, তা নিজেকেই স্থির করতে হবে। এই উপদেশটি তিনি পেয়েছিলেন তার বন্ধু ওয়ারেন বাফেটের থেকে। এটি সফলতার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র বলে মনে করেন তিনি।

চতুর্থত, নিজেই নিজের বস হোন। সফলতার পথে এগোতে গিয়ে অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা কখনই উচিত নয়। এতে নিজেকেই অপমান করা হয়। নিজের স্বকীয় সত্তা এবং চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করুন যাতে বাকিরা আপনাকে অনুসরণ করতে পারেন। বিল গেটসের পাঁচ নম্বর মন্ত্রটি হল, কর্মক্ষেত্রে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন। কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দৃঢ়তা আসে। এই দৃঢ়তা এবং ভালোবাসাই যেকোনো কঠিন কাজকে সহজ করে তুলবে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই নিজের সম্পর্কে সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তবে সমালোচনাকেই সফলতার আরেক মন্ত্র বলে মনে করেন বিল গেটস। আপনার প্রতি মানুষের যে যে অভিযোগ রয়েছে, তা ভালো করে শুনুন এবং সেখান থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করুন। বিল গেটসের কথায়, আপনার চরম অসন্তুষ্ট কাস্টমারই আপনার সফলতার পাথেয় হয়ে উঠতে পারেন।

এছাড়াও, নিজের লক্ষ্যের প্রতি সর্বদা আশাবাদী হতে হবে। কারণ হতাশার অপর নাম ব্যর্থতা। আর অবশ্যই নিজের সফলতা হিসেব করে চলুন। নিজের প্রতি নিজেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখুন এবং আপনি আপনার লক্ষ্যে কতদূর পৌছলেন, তার হিসেব করুন। বিল গেটসের নবম পরামর্শ হলো, জীবন থেকে শিক্ষা নিন। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জই কিছু না কিছু শিক্ষা প্রদান করে। যে শিক্ষা পাঠ্যবইয়ে কিংবা পরীক্ষা দিয়েও লাভ করতে পারবেন না।

তার দশম তথা চূড়ান্ত পরামর্শটি হলো, জীবনের সব রকম কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া এবং সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখুন। কারণ জীবন কখনোই সহজ নয়। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনেক কিছুই আপনার মনের মত হবে না। তাই নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে সকল কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা যিনি রাখেন, তিনি একদিন সফল হয়ে ওঠেন।