আফগানিস্তানের রুক্ষ মাটির বাস্তব কাহিনী জানতে দেখে নিতে পারেন এই সিনেমাগুলি

10
আফগানিস্তানের রুক্ষ মাটির বাস্তব কাহিনী জানতে দেখে নিতে পারেন এই সিনেমাগুলি

আজকে আমরা যে আফগানিস্তানের রূপ দেখছি, সেই আফগানিস্তানের রূপ অনেক আগে সাহিত্য আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। কাবুলিওয়ালা দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিঃসন্দেহে কাবুলি ওয়ালার দুঃখে আমরা সকলে দুঃখিত হয়ে ছিলাম। চোখের জলে ভেসে গিয়েছিল ছোট্ট মিনি এবং কাবুলিওয়ালার সম্পর্কের সমীকরণ। সুদূর বিদেশ থেকে যে কাবুলিওয়ালা ভালোবাসার ঝুলি নিয়ে এসেছিল আমাদের ভারতবর্ষে, শেষে তাকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়নি।

কিন্তু গল্পের সাথে বাস্তবের রয়েছে বিরাট ফারাক। আফগানিস্তানে তালিবানি সন্ত্রাসের বীভৎস চেহারার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাবুলিওয়ালার মিল আমরা কোথাও খুঁজে পাইনা। শুধুমাত্র কাবুলিওয়ালা নয়, একাধিক হিন্দি সিনেমাতে আফগানিস্তানের রুক্ষ মাটির বাস্তব কাহিনী উঠে এসেছিল আমাদের সকলের সামনে।

সিনেমাপ্রেমীদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে, অমিতাভ বচ্চন এবং শ্রীদেবী অভিনীত ছবি খুদা গাওয়া, যেটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল আফগানিস্তানের জাতীয় খেলা বাজকাশি, যেটি খেলতে খেলতে নায়ক-নায়িকার দেখা হয় এবং সেখান থেকে শুরু হয় প্রেম। সিনেমাতে দেখানো হয়েছিল আফগানিস্তানের মানুষদের কাছে আত্মসম্মানের মূল্য ভালোবাসার থেকে কতখানি বেশি। দেখানো হয়েছিল, কাউকে কথা দিলে সেই কথা কিভাবে রাখতে পারে আফগানিস্তানের মানুষ।

এরপর ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল মনীষা কৈরালা অভিনীত এসকেপ ফ্রম তালিবান। কলকাতা লেখক সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নিজের জীবন নিয়ে লেখা কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ, কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি তৈরি করেছিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। একজন বাঙালি মেয়ের আফগানিস্থানে পাড়ি দেওয়ার গল্প বলা হয়েছিল এই সিনেমাতে। শুধুমাত্র ভালোবাসার টানে একজন বাঙালি মেয়ে চলে গিয়েছিল আফগানিস্থানে কিন্তু শেষমেশ তাকে লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল এবং অত্যাচারিত হয়ে অবশেষে তালিবানদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল তার।

কাবির খান পরিচালিত কাবুল এক্সপ্রেস, ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জন আব্রাহাম এবং আরশাদ ওয়ার্শি। সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তারা। দুই দশক আগেও আফগান মুলুক কিভাবে তালিবানরা দখল করে রেখেছিল, সেই কঠিন সত্য তুলে ধরা হয়েছিল এই সিনেমার মাধ্যমে। সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে।

গতবছর সঞ্জয় দত্ত অভিনীত তোরবাজ সিনেমাতে দেখানো হয়েছিল বারুদের গন্ধে কিভাবে আফগানিস্তানের শৈশব শেষ হয়ে যাচ্ছে, ছবিতে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে শিশুদের সমাজে ফিরিয়ে আনার গল্প তুলে ধরা হয়েছিল।

২০১০ সালে মালায়ালাম ছবি কান্দাহার সিনেমাতে তুলে ধরা হয়েছিল ভারতীয় বিমান হাইজ্যাকের ঘটনা। সিনেমাতে মোহনলালের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

লোন সারভাইভার, সিনেমাতে তালেবান নেতা আহমেদকে গ্রেফতার করার ছবি তুলে ধরা হয়েছিল। সে মিশনের নাম ছিল অপারেশন রেড উইং।

দ্য কাইট রানার, সিনেমাতেই দুই বন্ধুর কাহিনী দেখানো হয়েছিল, যেখানে আফগানিস্তানে সোভিয়েত যুদ্ধের ফলাফল এবং কিছু সমস্যার বিষয়ে ফুটে উঠেছিল।

২০১০ সালে অস্কারে সেরা তথ্যচিত্র মূলক ছবির পুরস্কার পেয়েছিল, লার্নিং টু স্কেটবোর্ড ইন আ। ওয়ারযোন। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের শিশুকন্যাদের স্কেটবোর্ডের শিক্ষার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর যে লড়াই, তা ফুটে উঠেছিল এই সিনেমাতে।