তিরুপতির এই মন্দিরে চুল দান করা হয় কেন? জানুন

13
তিরুপতির এই মন্দিরে চুল দান করা হয় কেন? জানুন

আমরা ধনী হই টাকা পয়সায় নয়, আমাদের ধনী করে আমাদের মন এবং আমাদের চিন্তাধারা। যত বেশি ঈশ্বরের কাছাকাছি আমরা থাকতে পারবো আমাদের মন থেকে আমরা ততখানি বড় মনের মানুষ হয়ে থাকতে পারবো। ঈশ্বরকে কোটি কোটি টাকা অর্পণ করে তার মন পাওয়া যায় না বরং ঈশ্বরের মন পেতে গেলে দরকার একটি বড় মনের মানুষ হওয়া। এমন অনেক মন্দির রয়েছে যেখানে কোটি কোটি টাকা অর্পণ করা হয় শুধুমাত্র বিশ্বাসের জোরে, আবার যারা নাস্তিক তারা শুধুমাত্র মন্দিরের ইতিহাস এবং শিল্পকলা দেখে খুশি হয়ে থাকেন।

আজ আপনাকে বিখ্যাত মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে কথা বলব যেটি শুধুমাত্র আমাদের দেশে নয় বিদেশেও একটি দারুন মন্দির হিসাবে বিখ্যাত। আমরা সকলেই তিরুপতি বালাজি মন্দির সম্পর্কে জানি। এই মন্দিরের আরাধ্য দেবতার প্রতি ভক্তদের বিশ্বাস অপরিসীম। বালাজির কাছে ভক্তি ভরে নাকি যা চাওয়া হয় সেটাই পূরণ করে দেন ভগবান। মনোকামনা পূর্ণ হলেই ভক্তরা সনা সহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এবং অর্থ দিয়ে দেবতাকে খুশি করে দেন। শুধু ধনরত্ন নয়, অর্পণ করা হয় আরাধ্য দেবতার মাথার চুল। সেই চুল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে ব্যাপক টাকা আয় করেন তিরুপতি মন্দিরের কর্ণধাররা।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দৈনিক প্রায় কুড়ি হাজার ভক্ত এই মন্দিরের চুল দান করে নিজের। বাচ্চাদের চুল কাটার জন্য মন্দির চত্বরে প্রত্যেকদিন উপস্থিত থাকেন পাঁচশোর বেশি নাপিত। ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির টি দ্রাবিড় স্থাপত্য-শৈলীর একটি অপূর্ব সুন্দর নিদর্শন বলে মনে করা হয়। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অদ্দন আঘাত এই মন্দিরটি নির্মিত করা হয়েছিল। এই মন্দিরের গর্ভগৃহে টির নাম আনন্দ নিলইয়াম। বিদ্রোহ পূর্বমুখী করে স্থাপিত করা হয়েছে এই মন্দিরে। তীর্থ যাত্রীদের ভিড় সামলানোর জন্য মন্দির চত্বরে দুটি ইমারত গঠন করা হয়েছে

বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করার জন্য তারিকন্ডা ভেঙ্গামাম্বা অন্নপ্রশাদম চত্বর, মোস্তাক মন্ডল ভবন এবং একাধিক তীর্থযাত্রী নিবাস রয়েছে। এই মন্দিরটি তিরুমালা মন্দির অথবা তিরুপতি বালাজি মন্দির নামে পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্র মতে কলিযুগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার জন্য এই ভেঙ্কটেশ্বর রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন স্বয়ং বিষ্ণু। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিরুপতি বালাজি তে যত চুল দান করা হয় তার দশগুণ ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয় সেই ভক্তকে। এখানে যারা চুল দান করেন তাদের ওপর নাকি মা লক্ষ্মীর কৃপা সর্বদা বর্ষিত হয়। বিশ্বের এই একমাত্র মন্দির যেখানে ভগবানকে চুল দান করা হয়।

পুরান মতে অনুযায়ী প্রাচীনকালে ভগবান বালাজি তিরুপতির মূর্তির উপরের পাহাড় তৈরি হয়েছিল এবং সেই পাহাড়ে আসত প্রত্যেকদিন একটি গরু। প্রত্যেকদিন সেই গরুর দুধ দিয়ে চলে যেত সেই পাহাড়ে। একদিন গরুর মালিক ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ হয়ে কুড়াল দিয়ে গরুটিকে মেরে ফেলেন। এই আক্রমণে বালাজির মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথার চুল পড়ে যায় বালাজির। তারপর তার মা নীলা দেবী তার চুল কেটে বালাজির মাথায় রাখেন সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরের সেই ক্ষত সেরে যায়।

এই ঘটনায় প্রসন্ন হয়ে ভগবান নারায়ন বলেন, যে চুল সৌন্দর্য প্রদান করে একটি শরীরকে আমার জন্য কত সহজে তা ত্যাগ করে দিলেন আপনি। আজ থেকে যে ব্যক্তি আমার জন্য চুল ত্যাগ করবে তার সমস্ত মনের ইচ্ছা আমি পূরণ করে দেব। এই ঘটনার পর থেকে ভক্তরা বালাজির মন্দির এসে নিজের চুল দান করে যান।

সুলতান এর পেছনে আরও একটি প্রচলিত কাহিনী রয়েছে সেটি হলো নিজের বিয়ের জন্য ভগবান বালাজি কুবেরের থেকে ১১,৪০০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা ধার করেছিলেন সেই ধার শোধ করতে ভক্তরা মন্দিরের দানপত্রে অর্থ দান করেন সঙ্গে চুলও দান করে থাকেন। সেই চুল বিক্রি করে বালাজি ধার শোধ করা হয় বলে মনে করা হয়। এই চুলদান করে সমস্ত পাপ এবং খারাপ সময়ের অবসান ঘটে বলে মনে করেন ভক্তরা। প্রতিবছর তিরুপতি বালাজি মন্দির এ কয়েক লক্ষ কিলোগ্রাম চুল দান করা হয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রথমে সেই চুলকে জীবাণুমুক্ত করা হয় তারপর গরম জলে ধুয়ে শুকনো করে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চুলগুলি কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। এই চুল বিক্রি করে খাবার দুধ ইত্যাদি কিনে গরীব শিশুদের আহার করানো হয় বলে মনে করা হয়। এই চুল বিক্রি করা হয় ইউরোপ-আমেরিকার চীন এবং আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে।