পরিস্থিতি যেমনই হোক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাদামাটাভাবেই পুজোর আয়োজন করবে প্রত্যেক পুজো কমিটি

5
পরিস্থিতি যেমনই হোক স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাদামাটাভাবেই পুজোর আয়োজন করবে প্রত্যেক পুজো কমিটি

বাংলার আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই কান পাতলে শোনা যায় মহালো এর আগমনী সুর। মহালয়া এসে গেল মানে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। তবে এবছর সেটি আর হচ্ছে না।বহু বছর পর এই বছরের মহালয়ার ঠিক এক মাস পরে হতে চলেছে বাঙালি শ্রেষ্ঠ পূজা দুর্গোৎসব। আপাতত মা দুর্গার দর্শন পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছুদিন। চলতি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কিভাবে সকলকে সুরক্ষিত রেখে মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাই নিয়েই এখন চিন্তায় পড়েছেন সমস্ত পুজো কমিটির কর্তারা।

কলকাতা শহর শহরের সমস্ত পুজো কমিটির মাথায় এখন রয়েছে কিভাবে শহর এবং শহরতলীর একাধিক পুজো গুলি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করা যায়। তারা এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে, শহর এবং শহরতলীর সমস্ত বারোয়ারি পুজো কমিটি গুলির ইতিমধ্যেই তাদের পুজোর আয়োজন এর চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। পরিস্থিতি যেমনই আসুক না কেন, বাঙালির দুর্গোৎসব কিছুতেই বন্ধ করা যাবে না। চলতি বছরে মহামারীর জেরে প্রত্যেকটি মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেইসঙ্গে প্রতিমুহূর্তে রয়েছে মরণ আতঙ্কের ভয়। তবে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো এবার সমস্ত পুজো বন্ধ রাখতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই সকলের চোখে জল চলে এসেছিল।

কিন্তু অন্য সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এবছর বাঙালির মুখে হাসি ফোটাতে আসছেন মা উমা। ফোরাম ফর দুর্গোৎসব সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু জানিয়েছেন যে,”এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা একটা কথাই বলতে পারি যে, প্রতিবছর শহরে বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় মিলিয়ে বহু পুজো হয়ে থাকে। এ বছরে তার কোন ব্যতিক্রম হবে না।তবে প্রত্যেকটি পুজো কমিটির সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমস্ত আরম্ভর বাদ দিয়ে সাদামাটাভাবেই করতে চলেছেন পুজোর আয়োজন”।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসব এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র কলকাতা শহর জুড়ে প্রতিবছর তিন হাজারেরও বেশি দুর্গাপূজা হয়ে থাকে। এ দুর্গাপূজা থেকে প্রায় কয়েক লাখ মানুষের রোজগার চলে। সারা বছর ধরে শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়ে থাকে বহু সংসার।

এই বছর পুজো বাতিল করে দিলে বহু মানুষ আরো বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। ফোরামে সহ-সম্পাদক তুষার জানিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রতিবছর কলকাতাতে প্রতিমাশিল্পী, ঢাকি এবং ডেকোরেটর রা আসেন। দুর্গাপূজা বন্ধ হয়ে গেলে তারা অথৈ জলে পড়ে যাবেন। শুধুমাত্র দুর্গাপুজো থেকে তাদের যা রোজগার হয় তাই নিয়ে পাঁচ মাস সংসার চলে যায় তাদের।
বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি কলকাতার বুকে বহু নামিদামি বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে ভিড় করেন মানুষেরা। তবে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবছর পুজো করা হবে, তাই হয়তো বনেদি বাড়ির পুজো গুলিতে বাইরের দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে না।