শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কি কি করণীয়? জেনে নিন

10
শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কি কি করণীয়? জেনে নিন

ব্লাড প্রেসার বা সুগারের মত ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া সমস্যা এখন অনেকের মধ্যে দেখা যায়।শরীরের মধ্যে উচ্চমাত্রায় যদি ইউরিক অ্যাসিড থাকে তাহলে হতে পারে গাঁটে গাঁটে ব্যথা হবার মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে হঠাৎ করে যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়,তাহলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। ইউরিক অ্যাসিড সম্পর্কে অনেকেরই মনে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই ইউরিক অ্যাসিড এর সম্পর্কে কিছু সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া যাক। মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড স্বাভাবিক অবস্থায় বেরিয়ে, আমাদের যকৃত যখন তার থেকে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিড তৈরি করে, ঠিক তখনই আমাদের রক্তে বেড়ে যায় ইউরিক এসিডের মাত্রা।

এছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় বিভিন্ন খাবার থেকে উৎপন্ন ইউরিক অ্যাসিড রক্তে মিশে গিয়ে তাকে নিতে পৌঁছে, কিডনি আবার সেই টক্সিন উপাদানকে ছেঁকে নিয়ে বের করে দেয় শরীরের বাইরে। আমরা প্রতিদিনের বিভিন্ন ব্যস্ততার চাপে অনেক সময়ই অনেক খাবার এমন খাই যা রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে কিডনি সেই অতিরিক্ত শরীর থেকে বের করে দিতে পারে না।শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে না যাবার ফলে আপনার শরীরে বাড়তে থাকে ইউরিক এসিডের মাত্রা। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি কিছু কিছু সময় অসুস্থ বোধ করতে পারেন।এছাড়া সময় সঙ্গে সঙ্গে এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক আসিড জমা হতে থাকে। ইউরিক অ্যাসিড জমা হবার পরে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে থাকে।

ইউরিক এসিডের সমস্যায় খাবার-দাবারের নিয়ন্ত্রণের সত্যিই তেমন কোনো প্রয়োজন নেই।অতিরিক্ত প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন রেডমিট লাল মদ সামুদ্রিক মাছ কম মাত্রায় খাওয়া উচিত। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস মুসুরির ডাল বেশ কিছু সবজি যেমন পালংশাক এগুলি এড়িয়ে চলতে হবে।খাওয়া-দাওয়া সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে উচ্চমাত্রায় চিনি খাওয়ার পরেও হতে পারে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির সমস্যা।দে উচ্চমাত্রায় ইউরিক এসিডের উপস্থিত থাকার কারণে জয়েন্টে ব্যথা উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি সমস্যা সহ নানা রকমের অসুখ হতে পারে। ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দেবার জন্য একটি সহজ কৌশল রয়েছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে ইউরিক এসিডের নির্দিষ্ট মাত্রা হলো, পুরুষদের ক্ষেত্রে, ৩.৪-৭.০mg/dl এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ২.৪-৬.০ mg/dl।এর চেয়ে বেশি হলেই তা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন আছে। ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ এর কাজে সহায়তা করতে পারে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার। বাজারে গিয়ে একটি আপেল সাইডার ভিনিগার কিনে আনুন। এক চামচ ভিনেগার নিন, এক গ্লাস জলে সঙ্গে মিশিয়ে পান করে ফেলুন। দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার এই মিশ্রন পান করুন নিয়মিত। নিয়মিত এই ভিনিগার সেবনের ফলে আপনার শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড অবিলম্বে বিদায় নেবে।