দেশের মধ্যে মেয়েদের জন্মহারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলো পশ্চিমবঙ্গ

7
দেশের মধ্যে মেয়েদের জন্মহারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলো পশ্চিমবঙ্গ

নারীকে কিভাবে রক্ষা করতে হয় এবং তার মর্যাদা কিভাবে দিতে হয় তার পথ দেখিয়েছে সেই পশ্চিমবঙ্গই। তাই আজ সমস্ত বড় বড় রাজ্যগুলিকে পিছনে ফেলে রেখে পশ্চিমবঙ্গ মেয়েদের জন্মহারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। আমরা প্রায়শই দেখে থাকি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় কী মর্মান্তিক পরিণতি হয় মা আর সন্তানের। কখনো সদ্যোজাত সন্তানকে হত্যা করা হচ্ছে, কখনো বা মায়ের উপর করা হচ্ছে শারীরিক অত্যাচার, শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই দেওয়া হয় না বৌমাকে, কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার শাস্তি।

সমাজে মেয়েদেরকে বোঝা বলে মনে করা হয়, আগে অনেকেই ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করতেন, এর আগে আমরা এমন বহু জনকে দেখেছি কিন্তু বর্তমানে পিসিপি এন ডি টি আইনের আওতায় তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে বোঝানো হয়েছে যে এই সমাজে ছেলের যেমন প্রয়োজনীয়তা আছে,ঠিক তেমনি একটি মেয়েরও প্রয়োজনীয়তা আছে। এই সমাজে মেয়ে না থাকলে আগামী পৃথিবী তার নতুন প্রজন্মকেও পাবেনা।

কিন্তু এত কিছু বিজ্ঞপ্তিতেও মানুষকে বোঝানো যায় নি। তবে বর্তমানে আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্প নামক দুটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেখানে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা মায়েরাও আর্থিক নির্ভরতা পাচ্ছে, যাতে করে কন্যা সন্তানের জন্মকে এখন যথেষ্ট আনন্দের সাথেই নেয়া হয়।

বলা যেতে পারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দুই প্রকল্প অনুঘটকের কাজ করেছে, যাতে করে মোদি সরকারের সদ্যপ্রকাশিত ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভিসেস ৫ এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০০০ পুত্র সন্তান প্রসবের তুলনায়, কন্যা সন্তান প্রসবের দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। যেখানে পুত্র সন্তানে কন্যা সন্তান জন্মের হার ৯৭৩, প্রতি ১০০০ পুত্র সন্তান প্রসবের তুলনায় কন্যা সন্তান প্রসবের হার ৯৯৩ ।এমনকি মহারাষ্ট্র গুজরাট অন্ধপ্রদেশের মত সমস্ত রাজ্যগুলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে আমাদের বাংলা।

তবে বাংলা থেকে একটু এগিয়ে রয়েছে কর্ণাটক, এর আগে চতুর্থ সমীক্ষাতে দেখা গেছে প্রতি ১০০০ পুত্র সন্তান প্রসবের পশ্চিমবঙ্গে কন্যাসন্তানের সংখ্যা ৯৬০, পঞ্চম সমীক্ষায় তা অনেকটাই স্বস্তির জায়গায় এসেছে অর্থাৎ বাংলা এখন চ্যাম্পিয়ন এর তালিকায়। রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেছেন এখন মানুষ যথেষ্ট সম্মানের সাথে কন্যা সন্তানকে জন্ম দিচ্ছে, পুত্র সন্তান এবং কন্যা সন্তানের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করা হচ্ছে না।

এখন একটা কন্যা সন্তানকেও যথেষ্ট যত্নের সাথে বড় করে তোলা হচ্ছে এবং মহিলাদের সম্মান পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে। এমনকি কন্যাসন্তানকেও স্বাবলম্বী হিসেবে দেখতে চাইছে তাঁর মা-বাবা। মানসিকতার বদল এসেছে। তিনি বলেন পণপ্রথাটিও বন্ধ হওয়া উচিত, এটি বন্ধ হলেও আমরা সমাজের আরো একধাপ এগিয়ে যেতে পারবো।