আমরা এখন প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যাবহার করতে বাধ্য, জেনে নিন এই মাস্ক আবিস্কারের ইতিহাস

7
আমরা এখন প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যাবহার করতে বাধ্য, জেনে নিন এই মাস্ক আবিস্কারের ইতিহাস

গত বছর পর্যন্ত একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং চিকিৎসকরা মাক্স ব্যবহার করতেন। কিন্তু চলতি বছরে মহামারীর জন্য মাক্স ব্যবহার করে আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মাক্স এর ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরনো। ১৬০০ সালে যখন সারা ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন সংক্রমিত শরীরের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে ডাক্তারেরা মাস ব্যবহার করতে শুরু করেন

তখন মাক্স এর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হতো এক ধরনের সুগন্ধি। এই সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে বাইরের কোনো গন্ধ নাকে মুখে প্রবেশ করতোনা। কিন্তু যখন থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন, সুগন্ধিতে থাকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, তখন বিলুপ্তি ঘটে সুগন্ধি মাস্ক এর। তারপর থেকে তারা মেডিসিন এর মাধ্যমে দুর্গন্ধ দূর করে থাকে।

১৮৯৭ সালে একজন ফরাসি চিকিৎসক প্রথম আবিষ্কার করেন সার্জিক্যাল মাস্ক এর। এটি মূলত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো। অপারেশন টেবিলে কথা বলার সময় যদি মুখের ড্রপলেট এর মাধ্যমে জীবাণু বেরিয়ে এসে শরীরের কাটা অংশ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে, তাহলে অসুস্থ রোগীকে আরো বেশি অসুস্থ করে ফেলবেন চিকিৎসকেরা। তাই ব্যবহার শুরু করা হয় এই সার্জিক্যাল মাস্ক এর।

আর একজন ফরাসি প্যাথলজিস্ট আবিষ্কার করেছিলেন, মানুষের লালায় যে জীবাণু থাকে, সেখান থেকেও জীবনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই মানুষের লালা থাকে যাতে কোনরকম ইনফেকশন ছড়াতে না পারে, যাতে কোন রোগ সৃষ্টি না হয়, তাই না কেন মুখে নিরাপত্তা দেবার জন্য তিনি চিন্তাভাবনা শুরু করে দিলেন।

এরপর ১৮৯৭ সালের অক্টোবর মাসে দরজার বানিয়ে ফেললেন গজ দিয়ে একটি কাপড়ের টুকরো। এর চারিদিকে ছিল কঠোরভাবে জীবাণুমুক্ত করা লিলেন কাপড়ের অংশ। এটাই ছিল দুনিয়ার প্রথম সার্জিক্যাল মাস্ক। এই মাস্ক ব্যবহার করার পর তিনি খেয়াল করলেন যে, ইনফেকশন হওয়ার হার আগের থেকে অনেকটাই কমে গেছে।

এরপর ১৮৯৯ সাল থেকে প্যারিসের সার্জিক্যাল সোসাইটি কঠোর নিয়ম করে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি অপারেশনে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক কে। এরপর আরও পরিবর্তিত এবং বিবর্তিত হয়ে বর্তমান চেহারায় আসে এই মাস্ক।

প্রথমদিকে মেডিকেল মাস্ক বলতে বোঝানো হতো, শুধুমাত্র একটি কাপড় কে। কাপড় যত মোটা হবে, তাকে ব্যবহার করা ততই সুবিধা হবে।

পৃথিবীতে যত বার মহামারীর উপদ্রব দেখা গেছে, ততবার মাস্ক ব্যবহারের প্রচলন বেড়েছে মানুষের মধ্যে। আগে মহামারী হলে ডাক্তাররা চঞ্চু মাক্স ব্যবহার করতেন। এই মাক্স তাদের মহামারীর হাত থেকে বাঁচাত। এই মাস্ক এর মধ্যে তারা সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।

১৮৯৯ সালের যক্ষা মহামারীর সময় মেডিকেল মাস্ক ব্যবহার করা হয় বহুল সংখ্যায়। থুতু অথবা ড্রপলটের এর মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকার কারণে মাস্ক এর ব্যবহার বেড়ে গেল বহুল।

১৯১৮ সালে চিকিৎসক ওয়েফারের মত অনুযায়ী, ডিফথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে মাক্স ব্যবহার খুবই জরুরী। তবে মাক্স যদি একবার ভিজে যায়, তা পাল্টে ফেলা দরকার। মাক্স ব্যবহার করার পর মুখে হাত দেওয়া চলবে না।

২০১৩ সালে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, যেকোনো জ্বর কাশি হলে মাক্স ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে আক্রান্তের থেকে সেই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে না অন্যান্যদের মধ্যে।