টলি ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়

9
টলি ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়

চিরকালই মুখচোরা অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। তাকে ঠোঁটকাটা বলে অভিহিত করেন অনেকে, যদিও তিনি এই পরিচয়কে বেশ সাদরেই গ্রহণ করেন। চিরকাল মাথা উঁচু করে অভিনয় করে এসেছেন তিনি। নায়ক হোক অথবা খলনায়ক, সবেতেই তার জুড়ি মেলা ভার। একসময় খলনায়ক বলতে আমরা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে জানতাম না। সময়ের সাথে সাথে সেই চরিত্র পাল্টে গিয়ে নেহাতই সাদামাটা বাবা অথবা কমেডিয়ানের চরিত্রে পরিণত হয়ে যায়।

আজও দর্শকরা এবং অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাকে সমীহ করে চলেন। অনেক সময় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় অনেক কথা মুখের সামনে বলে দেন বলে, সেটা শ্রুতি মধুর হয় না। যদিও শ্রুতি মধুর না হলেও একটি কথাও তিনি অপ্রাসঙ্গিক বলেন না, একথা স্বীকার করেন সকলে।

এই বর্ষীয়ান অভিনেতার অভিযোগ জমা রয়েছে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে। কিছুতেই বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না তিনি। জেনারেশন গ্যাপ তার কাছে সত্যিই অনেক বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমান টেলিভিশনের ধারাবাহিক অথবা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয় অথবা মানসিকতা কোন কিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না তিনি।

তিনি মনে করেন, উত্তম কুমারের পরবর্তী সবাই যখন মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিল, তখন একাই অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কাজ করে সেই ইন্ডাস্ট্রিকে আরো একবার দাঁড় করাতে পেরেছিলেন। এখন যে সমস্ত সিরিয়াল টিভিতে দেখানো হয়, সেগুলিকে ধারাবাহিক বলে মনে করেন না তিনি। গল্পের না আছে মাথা, না আছে মুন্ডু। একদিকে লেখকরা আজগুবি গল্প লিখে চলেছেন, অন্যদিকে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সেই গল্পে অভিনয় করে চলেছেন। স্ক্রিপ্ট এখন শুধুমাত্র টাকা উপার্জন করার বিষয় বস্তু মাত্র। অভিনয়কে সেইভাবে ভালোবেসে আর কাজ করেন না কেউ।

এই স্পষ্ট স্বভাব হয়তো তাকে টলিউড থেকে অনেকটা দূরে করে দিয়েছে। মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদার তপন সিনহার মত পরিচালকেরা এই অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার জন্য অপেক্ষা করে থাকতেন। বর্তমান প্রজন্মের পরিচালকেরা তাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে ব্রাত্য করে রেখেছে, এখানেই তার যত ক্ষোভ। আজও ভালো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন বিপ্লব চ্যাটার্জী। ইন্ডাস্ট্রিতে এত কিছু খারাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে আরো একবার বিলিয়ে দিতে চান ইন্ডাস্ট্রিতে।