তৃণমূলের রাজ্য নেতার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ!

13
তৃণমূলের রাজ্য নেতার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ!

আরো একবার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ করলেন মৃত্যুপথযাত্রী একজন মেয়ের অসহায় বাবা। রসময় নামের ওই ব্যক্তি নিজের একমাত্র চিকিৎসা করানোর জন্য সাহায্যের আর্জি জানিয়ে ছিলেন তৃণমূলের কাছে। স্থানীয় তৃণমূলের রাজ্য নেতা আশীষ লাল সিং পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে শেষ মুহূর্তে সরে যান। অবশেষে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক এর দ্বারস্থ হন ওই অসহায় বাবা।

ত্রিপুরার শিবনগর গ্রামের কাঞ্চনপুর মহা বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী দেবযানীর দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়ে গেছে দরিদ্র কৃষক পরিবারের। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট না করাতে পারলে বাঁচানো যাবেনা ছোট্ট দেবযানীকে।

এমতাবস্থায় রসময় বাবু একটি কিডনি দেবার সিদ্ধান্ত করলেও তার ট্রান্সপ্লান্ট করার যে বিশাল অর্থ খরচ হবে, তা দেওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের। সেই কারণেই তিনি সকলের কাছে প্রার্থনা ভিক্ষা করেছেন। এমন একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে ওই দরিদ্র পরিবারের পাশে এগিয়ে এসেছেন পাড়া-প্রতিবেশী, সামাজিক সংস্থা, বিভিন্ন ক্লাব এবং এনজিও।

স্থানীয় তৃণমূলের রাজ্য নেতা আশীষ লাল সিং রসময় বাবুর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দেবযানীর চিকিৎসা যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন রসময় বাবুকে। কিন্তু তারপরেই কলকাতা তৃণমূল দল তৃণমূলের আইডি সেল বিষয়টি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। দেবযানীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তো দূরের কথা, বিষয়টিকে প্রচারের আলোয় এনে শুধুমাত্র স্বার্থসিদ্ধি করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ ওই দরিদ্র পরিবারের।

প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর আশীষ বাবুর সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি যোগাযোগ করেন না। এমনকি ফোন করলেও বিষয়টা এড়িয়ে যান তিনি। অবশেষে উপায় না পেয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক এর দ্বারস্থ হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন রসময় বাবু। প্রতিমা দেবী হস্তক্ষেপে অবশেষে দেবযানীকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। সেখানে চিকিৎসা শুরু হয় তার। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে আরও একবার বিশ্বাসঘাতকতার কথা সামনে উঠে এলো।