অভাব-অনটনের সংসারে পড়েও আজ আইএএস অফিসার আদিবাসী গ্রামে জন্ম নেওয়া রাজেন্দ্র বাবু

17
অভাব-অনটনের সংসারে পড়েও আজ আইএএস অফিসার আদিবাসী গ্রামে জন্ম নেওয়া রাজেন্দ্র বাবু

সাফল্য কখনো এক দিনই আসে না। তার জন্য করতে হয় কঠিন পরিশ্রম। নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকলে তবেই সাফল্য অর্জন করা যায়। সম্প্রতি এই কথাটা প্রমাণিত করে দিলেন সক্রি তালুকার সামাদ গ্রামে জন্ম নেওয়া রাজেন্দ্র বাবু। যিনি শত বাধা কে অতিক্রম করে আই এ এস অফিসার হয়েছেন। বর্তমানে গোটা দেশের কাছে তিনি একজন আদর্শ।

রাজেন্দ্র বাবুর মা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখনই তার বাবার মৃত্যু হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাবা কি জিনিস তা কোনদিন বুঝতে পারেনি রাজেন্দ্র বাবু। তার জীবন ঘিরে পুরোটাই ছিলেন তার মা। বাবার মৃত্যুর পর সংসারে অভাব-অনটন নেমে এসেছিল। রাজেন্দ্র মা এবং ঠাকুমা কোনরকমে সংসার চালিয়ে তাদের মানুষ করেছেন। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় মহুয়া ফুল।

সেই ফুল দিয়ে তৈরি হয় দেশীয় পানীয়। এই পানীয় তৈরি করা কোন বেআইনি কাজ নয়। রাজেন্দ্র বাবুর মা এবং ঠাকুর মা এই পানীয় বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

তাদের পানিয় বিক্রি করা টাকা নিয়ে তারা তিন ছেলেকে মানুষ করতেন। রাজেন্দ্র বাবু স্থানীয় জেলা পরিষদের বিদ্যালয় ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর রাজেন্দ্রপুর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াকালীন তার বিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষিকারা অনুধাবন করেন যে, রাজেন্দ্র বাবু একজন মেধাবী ছাত্র। বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনা করেন। রাজেন্দ্র বাবুর মাকেও জানানো হয় বিষয়টি।

এরপর তাকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে সিবিএসসি বোর্ডের স্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেই স্কুলে থেকেই পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজেন্দ্র বাবু। এরপর দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্কলারশিপের মুম্বাইয়ের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হবার স্বপ্ন থাকলেও তিনি কোনোদিন ভাবতে পারেননি যে সেটি কোনদিন পূরণ হবে। তবে ডাক্তার হলে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য দিনরাত পড়াশোনা করা শুরু করলেন তিনি। অবশেষে ২০১২ সালে ফরিদাবাদে আই আর এর অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। চাকরি পেয়ে তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। আরো একবার ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। ২০১৭ সালে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন শলাপুরে। এরপর পরের বছরই তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন নন্দূর্বার জেলায়।

আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নেন রাজেন্দ্র বাবু। প্রায় ৪০ হাজার পরিবারকে রেশনের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। তার ব্লগে উচ্চ মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি হয় গত বছর করোনাভাইরাস এর সময়। তাই সেখানকার মানুষের জন্য একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিত রাজেন্দ্র বাবু।