এবছর নীরবেই হল বিসর্জন পর্ব, নেই কোনো দশমী মেলা

6
এবছর নীরবেই হল বিসর্জন পর্ব, নেই কোনো দশমী মেলা

আলিপুরদুয়ার:- করোনাকালে বাঙালি সাক্ষী থেকেছে মণ্ডপে না ঢুকে উৎসবে সামিল হওয়ার। উৎসব শেষে সেই বাঙালি সাক্ষী থাকছে ভিন্ন ভাবে বিসর্জনেরও। সাক্ষী থাকছে আলিপুরদুয়ারও। যেখানে প্রতি বছর জাঁকজমকপূর্ণ করে মা দুর্গাকে বিদায় জানানো হয় সেখানে এই বছর হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ মিলে সেরেছেন বিসর্জনের পালা। নেই সেই ডি’জে! শুধুমাত্র ঢাকের বোলেই নিভৃতে না হলেও নীরবেই প্রায় সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া বিসর্জন পর্ব।

এদিন দুপুর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে নিরঞ্জন। তবে এবারের ভাসান অন্যবারের থেকে সম্পূর্ণ অন্য রকম।সোমবার দুপুরের পর থেকেই ফালাকাটার ব্লকের বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে এবার প্রতিমা নিরঞ্জন দিতে আসা অধিকাংশের মুখে মাক্স ছিল এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে একটি প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ার পর আরেকটি প্রতিমা নিরঞ্জণের ব্যাবস্থা করা হয়েছিল। এর আগে সকাল থেকে প্রত্যেক মন্ডপে মন্ডপে বাজে বিদায়ী সুর।

পরিবারের সুখ-শান্তি, মঙ্গল কামনায় ব্যস্ত ছিলেন পূজার্থীরা। তেল-সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি আর পান খাইয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানান মহিলারা। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এবার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষ্যে ঘাটে মোতায়েন ছিল পুলিশ। অপর দিকে সোমবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন হয় ফালাকাটা শহরের মুজনাই নদীর ঘাটে। প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষ্যে সেই ঘাটেও মোতায়েন ছিল পুলিশ।

উল্লেখ্য, করোনার জেরে বাতিল করা হয়েছিল বহু পুরানো জটেশ্বরের দশমী মেলা। এবছর ফালাকাটা ব্লকে কোথাও কোনও দশমী মেলা হয়নি। দিনের বেলা সুষ্ঠু ভাবে প্রতিমা ভাসানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। জটেশ্বর দশমী মেলা কমিটির এক সদস্য দেবজিৎ পাল বলেন, “করোনা ভাইরাস ছড়ানো রুখতে বাতিল করা হয়েছে জটেশ্বরের বহু পুরনো দশমী মেলা।” জানা গিয়েছে, ফালাকাটা ব্লকে ছোট-বড় মিলে প্রায় দেড়শোরও বেশি দুর্গা পুজো হয়। ফালাকাটা শহরেও বিরাট দশমী মেলা হয়, কিন্তু এবার মেলা হবে না তা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফালাকাটা দশমী ঘাট কমিটি।

অপরদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও সরকারি নিয়ম মেনে বিসর্জন পর্ব শেষ হয় মাদারিহাটে। ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার মধ‍্যে অন‍্যতম পুরাতন বিসর্জন ঘাট হলো মাদারিহাটে। প্রতি বছর মাদারিহাটে ডুয়ার্সের দলসিংপাড়া, হাসিমারা, সুভাষিনি, মাদারিহাট সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় একশোর বেশি দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এবছরও মাদারিহাটে হলং নদীতে হয় বিসর্জন, তবে এবছর করোনার কারণে বেশ কিছু সরকারি নিয়ম মেনে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন ঘাটে কোনো দোকানপাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। মোতায়েন ছিল পুলিশ। এই বছর প্রথম ক্রেনের মাধ‍্যমে প্রতিমা বিসর্জনের ব‍্যবস্থা করা হয়েছিল মাদারিহাটে।