চলতি বছরে আশ্বিন মাস হল মল মাস, তাই সম্পূর্ণ আশ্বিন মাস বাদ রেখে করা হবে মা দূর্গা র বোধন

8
চলতি বছরে আশ্বিন মাস হল মল মাস, তাই সম্পূর্ণ আশ্বিন মাস বাদ রেখে করা হবে মা দূর্গা র বোধন

বাংলার আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই কান পাতলে শোনা যায় মহালয়ার আগমনী সুর। মহালয়া এসে গেল মানে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। তবে এবছর সেটি আর হচ্ছে না। বহু বছর পর এই বছরের মহালয়ার ঠিক এক মাস পরে হতে চলেছে বাঙালি শ্রেষ্ঠ পূজা দুর্গোৎসব। আপাতত মা দুর্গার দর্শন পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছুদিন।

পঞ্জিকা মতে, আজ অর্থাত বুধবার সকাল ৯ টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ছিল পূর্ণিমা। তারপর মূহূর্তে থেকে শুরু হয়ে যাবে পিতৃপক্ষ। পিতৃপক্ষ চলবে ঠিক পনেরো দিন। শেষ হবে মহালয়ার দিন। এবছর সেদিনই আবার বিশ্বকর্মা পুজো। সাধারণত পিতৃপক্ষ অবসানের পর শুরু হয় দেবীপক্ষ। কিন্তু সবকিছুর মতো এবছরও এটিও হবে না নিয়ম মত। অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছুদিন। দেবিপক্ষ শুরু হবে ১৭ই অক্টোবর। শনিবার,৩০ শে আশ্বিন। দেবীর বোধন হবে ২২ অক্টোবর।

প্রতিবছর অমাবস্যার পরেই শুরু হয়ে যায় দেবীপক্ষ। কিন্তু চলতি বছরে যেহেতু আশ্বিন মাস হল মল মাস। তাই আরো এক মাস অপেক্ষা করতে হবে দেবীপক্ষের জন্য। কোন মাসে ৩০ দিনের মধ্যেই দুটো অমাবস্যা তিথি পড়লে তাকে বলা হয় মলমাস। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, মল মাসে কোন শুভ কাজ করা উচিত নয়।

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গবেষক এবং লেখকের নব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেছেন,”মলমাস বিষয়টি নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরের কোনো না কোনো সময়ে পড়ে যায়। কিন্তু এই বছর দুর্গা পূজার সময় পড়েছে মল মাস। তাই যেহেতু মল মাসে কোন শুভকাজ অনুষ্ঠিত হয় না। তাই সম্পূর্ণ আশ্বিন মাস বাদ রেখে করা হবে মা দূর্গা র বোধন।

মা দুর্গা মর্তে আগমন করার সময় হয়তো পৃথিবীতে কাশফুল থাকবে না, তবে এমন ঘটনা পূর্বেও বহুবার ঘটেছে। কার্তিক মাসে দুর্গাপুজো বহুবার হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৯৮২ ও ২০০১ বছরগুলিতে আশ্বিন মাস মল মাস।
তবে পঞ্জিকা যাই বলুক না কেন, মহালয়ার এতদিন মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষা করাটা যেন বড়ই কষ্টের। প্রত্যেক বছর মহালয়ার আগে শুরু হয়ে যায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দর্শন। এবারে মহামারী, তার ওপর মল মাস, সবকিছু নিয়ে অনেকটাই দেরিতে আসতে চলেছেন মর্তে মা দুর্গা। তবে বাঙালির মনে প্রাণে একটাই আশা, অক্টোবরে তৃতীয় সপ্তাহে হয়তো বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। বাঙালি প্রতিবছরের মতো আবার মেতে উঠবে মায়ের আগমনী তে।

এছাড়াও প্রতিবছর মহালয়া দিনে পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন অনেকে। মনে করা হয় যে এই দিন প্রথম থেকে পূর্বপুরুষেরা তারা ফিরে আসেন মর্তলোকে। তাই এই দিন হয়ত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিনে তাদের উদ্দেশ্যে দিল এবং জল দিয়ে তর্পণ করে অর্পণ করা হয় গঙ্গায়। নবকুমার বাবু জানান যে, “শুধুমাত্র নিজের পিতৃপুরুষ নয়, অন্যের পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে অর্পণ করা যায়। এছাড়া মৃত জীব জন্তুর উদ্দেশ্যেও অর্পণ করা যায় এই দিন”।