সমুদ্রের গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে উড়িষ্যা উপকূলের এই গ্রাম

4
সমুদ্রের গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে উড়িষ্যা উপকূলের এই গ্রাম

উড়িষ্যা কেন্দ্রপাড়া জেলার সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে একটি গ্রাম দেখলে রীতিমতো মনে হবে যে কোন মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মাইলের পর মাইল শুধুমাত্র বালি। মাঝখানে রয়েছে কিছু তাল গাছের সারি। যেকোনো ভাবে এটিকে গ্রাম বলা যায়না। একনজরে দেখলে মনে হবে যে এটি কোন মরুভূমি। কিন্তু এখানেই একসময় বাস করতে প্রায় 700 পরিবার।

শুধুমাত্র কেন্দ্রপাড়া জেলা না, আশেপাশে গ্রামের ও একই অবস্থা। একসময় সাতভয় ছিল ৭.টি গ্রামের মিলিত জনপদ। কিন্তু আজ তাক রয়েছে সংকটের মুখে। শুধুমাত্র সমুদ্র উপকূলের ভাঙ্গন আস্তে আস্তে গ্রাস করেছে গোটা গ্রামকে। একটু একটু করে ঢুকে পড়েছে উড়িষ্যা উপকূলের অনেকটা ভিতরে।

একসময় যেখানে বাচ্চারা হেসেখেলে বেড়াত সেখানে আজ রয়েছে শুধুমাত্র নির্জনতা। কোথাও দেখা যাচ্ছে বাড়ির ভেতরে অর্ধেক কেটে গেছে একটি হ্যান্ড পাম্প, কোথাও জীর্ণ মন্দির যাতে কোনও মূর্তি নেই। বিক্ষিপ্ত গরু-ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক।

২০১৮ সালে সরকারি উদ্যোগে উপকূল এলাকায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ৫০০র বেশি পরিবারকে। কিন্তু অনেকেই যেতে চাননি। কুড়িটি মহিষ নিয়ে সেখান থেকে গেছেন এক বছর চল্লিশের ভদ্রলোক। সেগুলো দেখাশোনা করতেই পুরনো বাড়িতে থেকে যান তিনি। সেখানে না আছে বিদ্যুৎ না আসে অন্য কোনো ব্যবস্থা, শুধুমাত্র পুরনো মাটির টানে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি সেখানে। তার মতো আরো কয়েকজন মাটির টানে পরে রয়েছেন সেখানে।

উড়িষ্যা উপকূলের এরকম ১৪৮ টি পরিবারের মধ্যে আরও ১১৮ টি পরিবারের পূনর্বাসনের সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছে। দলিল সংক্রান্ত জটিলতা মিটে গেলে উঠে যাবেন বাকি পরিবারও। একটি বা দুটি নয় রীতিমতো সাতটি আশ্চর্যের মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

সম্প্রতি গ্রামবাসী বাবু মল্লিক এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, আমাদের কাছে এই ছোট্ট জমি অনেক কিছু। কিন্তু আমরা সত্যিই আজ নিরুপায়। আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে সমুদ্র। গত চার বছরে চারবার বাড়ি পাল্টেছি আমরা।

উড়িষ্যার জেলাশাসক বসন্ত কুমার রাউত জানিয়েছেন, সরকারি তরফে ডিজে পাক্কা ঘর যোজনা প্রকল্পের আওতায় বাড়ি বানানোর জন্য প্রত্যেককে দেওয়া হবে ১.৫ লাখ টাকা।

কিন্তু সরকারি আশ্বাস পেয়েও খুব একটা সন্তুষ্ট হয়নি গ্রামবাসীরা। পবিত্র কুমার সাহু জানিয়েছেন, আমার পরিবারকে আমি অন্য গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি। নিজেও কেরালা চলে গিয়েছিলাম কাজের সন্ধানে। কিন্তু লকডাউন হবার জন্য আরও একবার ফিরে আসতে হয়েছে। এখনো পর্যন্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়নি।

এমন আরো অনেক মানুষ আছেন যারা দিনের পর দিন পরে রয়েছেন এই মৃত্যুপুরীতে। সরকার থেকে সামান্য সাহায্যের আশায় বসে রয়েছেন তারা। পুনর্বাসন হলে তবেই তারা দেখতে পাবেন একটু সুখের মুখ