এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার

11
এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট হলে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় কৃষকদের। এমতাবস্থায় কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে থাকে সরকার। কৃষকেরা যাতে তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পেতে পারেন তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে শস্য বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানালেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়েছে তারা ৩১শে আগস্টের মধ্যেই নাম নথিভূক্ত করতে পারবেন।

শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৃষকদের টাকা কিস্তির মাধ্যমে দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে কৃষকেরা আলু ও আখ ছাড়া অন্যান্য ফসলের জন্য বীমা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অত্যাধুনিক উপগ্রহ ভিত্তিক রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার। চলতি খরিফ মরসুমটিও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।

চলতি খরিফ মরসুমে কেবল ধান ও ভুট্টা এই দুটি শস্যের ক্ষেত্রেই কৃষকরা বিমার সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছর খরিফ মরসুমে প্রায় ৬৩ লক্ষ ২২ হাজার কৃষক ক্ষতিপূরণের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৮১৬ জন কৃষক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ২০২০ সালে রবি মরসুমের জন্য প্রায় ৫৩ লক্ষ কৃষক নাম নথিভূক্ত করেছেন।

রাজ্যের তরফ থেকে চালু করা এই বীমা যাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাবে তার জন্য গ্রামে গ্রামে প্রচার চালানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে নবান্ন। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা থেকে নিয়মিত এই বিষয়ে রিপোর্ট নেওয়া হয়। উল্লেখ্য বিগত কয়েকদিনে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বাঁধ ভেঙে জল আসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু চাষের জমি। এমতাবস্থায় কৃষকদের শস্য বিমার আওতায় এনে সাহায্য করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য।