এবার বাজারে আসতে চলেছে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি নতুন প্রাকৃতিক রং

6
এবার বাজারে আসতে চলেছে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি নতুন প্রাকৃতিক রং

ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই আত্মনির্ভর ভারতের উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন মোদি সরকার। কেন্দ্র সরকার এবারে তৎপর হয়েছেন দেশেতে একদম দেশীয় পদ্ধতিতে রং তৈরির ব্যাপারে। বাজারে এইবার নতুন ধরনের রঙ আসতে চলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির হাত ধরে। বাজারে এই নতুন প্রকৃতির রং আসতে আর মাত্র একটি দিন বাকি। নতুন ধরনের প্রাকৃতিক রং এর সম্পূর্ণ সাধারন একটি নাম রাখা হয়েছে “প্রাকৃতিক পেইন্ট”। জানা গেছে রংটি সম্পূর্ণ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং এটি সম্পূর্ণরূপে বিউরো অফ ইন্ডিয়া স্ট্যান্ডার্ড -এর অনুমোদিত।

আরো জানা গেছে শুরুতে দুই ধরনের রং শুধুমাত্র পাওয়া যাবে। প্লাস্টিক ইমালশন ও ডিসটেম্পার পেইন্ট, এই দুই ধরনের রং বাজারে এখন উপলব্ধ হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থা। অন্যান্য রং এর মতন এই রঙে ভারী ধাতু অর্থাৎ ক্রোমিয়াম, পারদ, ক্যাডমিয়াম, লেড এইসব কোনটাই প্রাকৃতিক রং এতে থাকবে না। এর কারণে এই রংটি যথেষ্ট সস্তায় পাওয়া যাবে এবং এটিকে সম্পূর্ণরূপে পরিবেশ বান্ধব বলা যেতে পারে।

জানা গেছে গোবর হলো এই প্রাকৃতিক রং এর মূল উপাদান। মূল উপাদান হিসেবে গোবর ব্যবহৃত হলেও এই রঙে একদমই অগ্র গন্ধ থাকবে না এইরূপ জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আপাতত এই রঙটি তৈরি হচ্ছে “কুমারাপ্পা ন্যাশনাল হ্যান্ডমেড পেপার ইনস্টিটিউট” -এ যেটি জয়পুরে অবস্থিত। নতুন প্রকারের রংটি তৈরির পিছনে যে কমিশনের উদ্যোগ রয়েছে সেটি হল “খাদি অন্ড ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ।” রংয়ের গুণমান যাচাই করার জন্য নিযুক্ত রয়েছে দেশের তিনটি গবেষণাগার যথা – মুম্বাইয়ের নেশনাল তেস্ট হাউস, দিল্লির সিরাম ইনস্টিটিউট এবং রয়েছে গাজিয়াবাদের নেশনাল টেস্ট হাউস।

কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এই নতুন ধরনের রংটি দেশে তৈরি হওয়ার কারণে দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি উপার্জন বাড়বে গোশালার মালিকদের এবং কৃষকদেরও এর পিছনের উল্লেখযোগ্য কারণ হলো এই রংটির মূল উপাদান গোবর। কেন্দ্র জানিয়েছেন বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে প্রত্যেকটি গরু থেকে। বিশেষ সুবিধা অর্জন করবে সেই সমস্ত বাড়ি যেখানে রয়েছে গরুর খাটাল। কেন্দ্র সরকার সেই সকল বাড়ির প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছেন। করণা মহামারীর সময় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রং বাজারে এলে সাধারন জনতা তথা গো-পালক উভয়ই বিশেষ উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্র।