এবার প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে এল খড়গপুর আইআইটি বিশেষজ্ঞরা, যা দিয়ে তৈরি হবে প্যাকিং বাক্স

3
এবার প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে এল খড়গপুর আইআইটি বিশেষজ্ঞরা, যা দিয়ে তৈরি হবে প্যাকিং বাক্স

প্লাস্টিকের ব্যাগের উপর বহু আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, প্যাকেট জাতীয় দ্রব্য কখনোই মাটির সাথে মিশে যেতে পারে না। মাটির মধ্যেই দীর্ঘদিন অক্ষত অবস্থায় থেকে গিয়ে তা ধীরে ধীরে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে দেয়, নদী-নালার জলে পড়ে দূষণ ঘটায়। কিন্তু মানুষের কাছে এই মুহূর্তে প্লাস্টিকের কোনো বিকল্প নেই। সস্তা এবং উপযোগী হওয়ার দরুন নিষিদ্ধ হলেও প্লাস্টিকের ব্যবহার এখনও বন্ধ হয়নি।

তবে সেই প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে এলেন আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানাচ্ছেন, প্লাস্টিকের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে শশার খোসা। কারণ শসার খোসার মধ্যেই রয়েছে এমন কিছু ন্যানো ক্রিস্টাল যা থেকে সহজেই প্যাকিংয়ের বাক্স তৈরি করা যেতে পারে। এই প্যাকিং বাক্স হবে সম্পূর্ণভাবে “ডিগ্রেডেবেল”, অর্থাৎ ব্যবহারের পর তা মাটিতে ফেলে দিলে মাটির সঙ্গে সহজেই মিশে যাবে।

অর্থাৎ সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হবে শশার খোসার দ্বারা তৈরি এই অভিনব প্যাকিং বাক্স। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শসা একটি অতি সহজলভ্য খাদ্যবস্তু। স্যালাড তৈরির জন্য অনেকেই শশা ব্যবহার করেন। তাই শসার খোসা জোগাড় করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। শসার যে খোসা অব্যবহার্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, সেই ফেলে দেওয়া সামগ্রী থেকেই বানানো যাবে প্যাকিংয়ের বাক্স। যার ফলে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খড়গপুর আইআইটি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়িতা মিত্র জানালেন, ইতিমধ্যেই তারা শসার খোসা দিয়ে প্যাকিংয়ের বাক্স বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন এবং এতে তারা সফলও হয়েছেন। শসা বা ওই জাতীয় ফল বা সবজির খোসা যদি প্লাস্টিকের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে, তাহলে পরিবেশের জন্য এর থেকে মঙ্গলের আর কিছুই হবে না। তাই বর্তমানে আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের নতুন উদ্ভাবন নিয়ে বেশ আশাবাদী।