নষ্ট ভাত শুকিয়ে চাল হলে আবার রান্না করে খান এই বৃদ্ধা

8
নষ্ট ভাত শুকিয়ে চাল হলে আবার রান্না করে খান এই বৃদ্ধা

বর্তমান সমাজে সকলের হাতে স্মার্টফোন থাকার কারণে আমরা এমন অনেক ভিডিও চোখের সামনে দেখতে পাই যা বোঝায় আমাদের কাছে সহজে পৌঁছতে না। এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে যা দেখে রীতিমতো সকলের চোখে জল চলে আসবে। এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে একজন বৃদ্ধা কে ঘিরে। সত্তর বছরের বৃদ্ধার নাম সাবিয়া বেগম। তিনি থাকেন নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া বিহারী কলোনী মহল্লার ছোট যমুনা নদী সংলগ্ন সরকারি জমিতে। সেখানে একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বসবাস করেন।

২৫ বছর আগে তার স্বামী নূর মিয়া মারা গেছিলেন তখন তার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। মেয়েকে আদরে বড় করে তিনি বিয়ে দেন। এরপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি আর কাজ করতে পারেন না। তাই কার্যত বাধ্য হয়ে ভিখ্যা করে দিন চালাতে হয় তাকে।

এপ্রিল মাসে কোন এক শুক্রবার তপ্ত দুপুরে বিহারী কলোনী মাঠে তাকে টিনের উপর নষ্ট ভাত শুকোতে দেখা যায়। এমন দৃশ্য দেখে সেখানকার ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রিয়াজ খান মোবাইলে ছবি তুলে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি দেখে অনেকেই মর্মাহত হন।

শুধু এই বৃদ্ধা নয়, ওই কলোনির প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি পরিবারের এই একই ভাবে সংসার চালাচ্ছেন। করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের জীবন। বহুদিন লকডাউন হয়ে থাকায় দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে এই ভাবে তাদের দিন চালাতে হচ্ছে।

বৃদ্ধার ভাত শুকানোর দৃশ্য ফেসবুকে পোস্ট করার সময় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রিয়াজ খান লেখেন যে, ফেসবুকে সব সময় দেখতে পাই যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু তাও এরকম দৃশ্য দেখতে হলো। আমি বৃদ্ধাকে যখন জিজ্ঞাসা করলাম যে এগুলো নিয়ে কী করবেন? তখন তিনি উত্তরে বললেন, ঘরে তরকারি নেই, চাল শেষ। বাজার করতে পারিনি। তাই নষ্ট হয়ে যাওয়া ভাত শুকিয়ে চাল হলে আবার রান্না করে খাব। এছাড়া অন্য কোন রাস্তা নেই। কেউ আমাদের ত্রান দিয়ে যায় না।

রিয়াজ খান আরো বলেছেন যে, যারা চান অথবা বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরনে নিয়োজিত রয়েছেন, এই বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। আপনারা পারলে এই মানুষটির পাশে এসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন।

বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম বলেন যে, গতকাল রাতে এক প্রতিবেশী থাকে ভাত দিয়েছিলেন। রাতে কিছু খেয়ে আমি রেখে দিয়েছি। সকালে উঠে দেখি সেই ভাত নষ্ট হয়ে গেছে। ওই নষ্ট ভাত জল দিয়ে পরিষ্কার করে আবার রোদে শুকোতে দিয়েছি। গত কয়েকদিন ধরে ঘরে কোন খাবার নেই। খুব কষ্টের জীবন চলছে।

যে কলোনিতে এই বৃদ্ধা বসবাস করেন, সেখানে কেউ স্বামীহারা, কারোর হয়তো স্বামী অসুস্থ, কেউ রিক্সা অথবা ভ্যান চালক। লকডাউন হয়ে যাবার পর সকলেরই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এই ভাবে তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।