এই প্রথমবার মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিনীরূপে অবতীর্ণ হচ্ছেন ঋতুপর্ণা, কি জানালেন তিনি

10
এই প্রথমবার মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিনীরূপে অবতীর্ণ হচ্ছেন ঋতুপর্ণা, কি জানালেন তিনি

বাঙালির প্রিয় দূর্গা পূজো একেবারে আর মাত্র ১৪ দিনের অপেক্ষা। তবে দূর্গা পূজার আগে মহালয়া বাঙালির কাছে একটা অন্য রকম ইমোশনের জায়গা। দুর্গাপুজো ফিলটা এই মহালয়ার দিন থেকেই আসা শুরু হয়। মহালয়ার দিন সকালে ‘ যা দেবী সর্বভতেষু ‘ এই মন্ত্র না শুনলে পূজা এসেছে মনেই হয়না। এবছর ২৫ সেপ্টেম্বর পড়েছে মহালয়া। আর মহালয়া মানেই এখন শুধু রেডিও শোনা নয় টিভিতেও অনেক অভিনেত্রীদের দুর্গা অভিনয় নানা মা দুর্গার কাহিনী আপামর বাঙালিকে অপেক্ষা করিয়ে রাখে। সকাল হলেই টিভি খুলে বসে পড়েঅধিকাংশ বাঙালি। নানা চ্যানেলে নানা অভিনেত্রীদের দেখতে পাওয়া যায় দুর্গার নানা রূপে অভিনয় করতে। আর এবারে কালার্স বাংলায় জানা যাচ্ছে দুর্গা রূপে দেখা যাবে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে।
তিনি খুব ভালো অভিনয় করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না কারণ অনেক অভিজ্ঞ অভিনেত্রী তিনি আমাদের টলিউডে।
আর এই বিষয় নিয়েই তার একটা ইন্টারভিউ নেওয়া হয় তিনি কি জানান আসুন জেনে নেওয়া যাক :-
প্রথমবার মহালয়ায় আপনি মহিষাসুরমর্দিনীরূপে অবতীর্ণ হচ্ছেন ‘দেবী দশমহাবিদ‌্যা’-য়। সেটা নিয়ে কতটা ভাললাগা আছে?

উ: আই অ‌্যাম আ পারফরমার। নাচ নিয়ে আমি সবসময় এক্সাইটেড। সবসময় আমার কেরিয়ারে নাচের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। ছোটবেলায় নাচই প‌্যাশন ছিল। টেলিভিশনে যখনই নাচ নিয়ে অনুষ্ঠান করেছি, সবগুলোতেই খুব ভাল প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। ইনফ‌্যাক্ট, কিছুদিন আগেও ‘বেলাশুরু’-র ‘টাপা টিনি’-র জন‌্য সকলে যা ভালবাসা দিয়েছেন কী বলব! দর্শকের বক্তব‌্য যে, অভিনয়ের পাশাপাশি, নাচে তাদের মন ভরে গিয়েছে। সেই জন‌্যই মহালয়ার অনুষ্ঠানে মা দুর্গা রূপে হাজির হওয়ার অফার আসায় আমার খুব এক্সাইটেড লেগেছিল। খুব যত্ন নিয়ে আমরা কাজটা করেছি। দুর্গার সাজটা সম্পূর্ণ করতেই তিনঘণ্টা লাগত, চোখ, চুল, মেকআপ সব মিলিয়ে। প্রায় চার-পাঁচজন মেকআপের জন‌্য ছিলেন। প্রচুর হার্ড ওয়ার্ক রয়েছে এর নেপথ্যে। মায়ের দশটা রূপ দেখা যাবে ‘দেবী দশমহাবিদ‌্যা’য়, আমি ছাড়া টেলিভিশনের অনেক প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীও রয়েছেন। আমি লিড করলেও প্রত্যেকের সুন্দর উপস্থিতি চোখে পড়বে। মেকআপ আর কস্টিউম চমৎকার হয়েছে, ভীষণ রিয়‌্যাল লাগছে। আশা করব সকলের ভাল লাগবে।
রিশোনা আর অঙ্কনকে এই মহালয়া দেখানোর ইচ্ছে আছে?

উ: ইনফ‌্যাক্ট, শুটিংয়ের সময় ওরা দু’জনেই সেটে এসেছিল। সেই সময় ওদের ছুটি ছিল, ফলে ওদের অনেকটাই দেখা (হাসি)। যখন শুটিং করেছিলাম, আমার বেশ জ্বর ছিল। ভাইরাল ফিভারে কাবু হয়েও মহালয়ার সুযোগটা আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।
আপনার ছোটবেলার মহালয়া কেমন ছিল?

উ : ভোরবেলায় রেডিওর কাছে গিয়ে বসে পড়তাম। আমার ঠাকুরমা ভোর চারটের সময় মহালয়ার জন‌্য রেডিও চালিয়ে দিতেন। আমাদের জন‌্য ওই ছোটবেলায় ঘুমচোখে মহালয়া শোনা বিরাট ব‌্যাপার ছিল, ওটা কোনও কিছু দিয়েই রিপ্লেস করা যাবে না। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ওই দরাজ গলা শুনে, মনে হত মা এবারে সত্যিই আসছেন। আমাদের পুজো তখনই শুরু হত।
এখনও এই পরিমাণ মাল্টিটাস্কিং-এর এনার্জি কোথা থেকে পান?

উ: এটাই আমি। কোনও কাজই হেলাফেলা করে করতে পারি না। কালার্স বাংলা খুব সুন্দরভাবে পুরোটা করেছে।ডিরেক্টর শুভেন্দু চক্রবর্তীর ভাবনাটা সুন্দর। ওদের পুরো টিমটাই খুব ভাল।
এত ট্র‌্যাভেল করছেন চারদিকে পুজোর কেনাকাটা করার সময় পেলেন?

উ: আগামী দুটো ছবি রিলিজ, প্রোমোশনের চাপ সব মিলিয়ে সত্যিই বড্ড ব‌্যস্ততা চলছে। ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ আসবে অক্টোবরের শেষদিকে। এই ছবিতে আমি ছাড়া পরমব্রত চট্টোপাধ‌্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ‌্যায় রয়েছে। আর ‘আকরিক’ যেটায় আমার সঙ্গে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ‌্যায় রয়েছেন, সেটাও মুক্তি পাবে। আর ‘মায়াকুমারী’ সম্ভবত শীতে মুক্তি। এর মধ্যেই পুজোর উপহার আসা শুরু হয়েছে। মাননীয় মুখ‌্যমন্ত্রীও একটা খুব সুন্দর শাড়ি পাঠিয়েছেন, আমি খুব খুশি। নিজে গিয়ে কেনাকাটার অবকাশ এবারে এখনও পাইনি।

এভাবেই তিনি একে একে উত্তর দেন সেই সংবাদমাধ্যমকে। তিনি হাই ফিভারের মধ্যে থেকেও কিভাবে মহালয়ার শুটিং করেছেন সবই জানিয়েছেন তিনি। তাই বলা যায় তাঁর এই মা দুর্গা রূপে অভিনয় হয়তো বাঙালির ভালোই লাগবে।

Rituparna Sengupta will be playing the role of Durga on Colors Bangla’s Debi Doshomohabidya