একটি প্রাচীন মূর্তি পেয়েও নিজেদের ঘরে রাখার সাহস পাচ্ছেন না বর্ধমানের এই পরিবার

15
একটি প্রাচীন মূর্তি পেয়েও নিজেদের ঘরে রাখার সাহস পাচ্ছেন না বর্ধমানের এই পরিবার

আজ থেকে প্রায় আড়াই মাস আগে পুকুর থেকে মাটি তুলতে গিয়ে মাটির তলা থেকে উদ্ধার হয় অষ্টভূজাপিতা মরিচী দেবীর মূর্তি। পুকুরের পাকের তলা থেকে উদ্ধার হওয়া ওই প্রাচীন মূর্তিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে সেই পরিবারটি অত্যন্ত যত্নসহকারে এতদিন দেবী মূর্তিটির পূজা-অর্চনা করে আসছিলেন। ফুলজল, ধুপ-ধুনো দিয়ে চলছিল নিত্য পূজা। তবে এখন আর তারা সেই মূর্তিটিকে নিজেদের ঘরে রাখার সাহস পাচ্ছেন না। তাই মূর্তিটিকে তারা প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে চান।

পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলার দাঁইহাটের বেড়াগ্রামের ঘোষ পরিবার সম্প্রতি ওই প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার করেন। তবে মূর্তিটি উদ্ধার করার পর থেকেই নাকি তাদের পরিবারে একের পর এক ঘটে চলেছে অঘটন। পরিবারের কর্তা জানাচ্ছেন, মূর্তিটিকে বাড়িতে আনার তিনদিনের মধ্যেই তাদের গোয়ালঘরের চারটে মহিষ হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

মূর্তিটিকে বাড়িতে আনার দশ দিনের মাথায় তাদের পরিবারের ছেলে ঘরের চাল ছাওয়ানোর সময় পড়ে যান। সে এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেনি। এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি তাদের বাড়িতে বজ্রপাত হয়েছে। বজ্রপাতের কারণে তাদের পরিবারের এক শিশুর কানে তালা লেগে গিয়েছে। সে এখনো কানে কিছু শুনতে পাচ্ছে না। এই সবকিছুর পেছনে ওই মূর্তিটিকেই দায়ী করছেন তারা। তারা মনে করছেন সঠিক নিয়ম মেনে মূর্তি পূজা করা হচ্ছে না। তাই এই অঘটন।

অষ্টভুজাপিতা মরিচী দেবীর তিনটে মাথা আর আটটি হাত। প্রত্যেক মুখে তিনটি করে চোখ রয়েছে। দেবীর মধ্যে মুখটি শান্ত, ডান দিকের মুখ ক্রুদ্ধ ভঙ্গিমায় এবং বাম দিকের মুখাবয়ব বরাহ আদলের হয়ে থাকে। দেবী তার আটটি হাত দিয়ে সূঁচ, সুতো, অঙ্কুশ, রজ্জু, তীর, ধনুক, বজ্র এবং অশোক গাছের ডাল ধরে রয়েছেন! দেবী রথের উপর দাঁড়িয়ে থাকেন এবং সাতটি বরাহ তার সেই রথ টেনে নিয়ে যায়। রথের তলায় রয়েছেন রাহু। দেবীর চারপাশে আরো চারটি দেবী মূর্তি রয়েছে। এই মূর্তিটি ঐতিহাসিকদের বিচারে অত্যন্ত মূল্যবান।