প্রত্যেকটা ঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন ভারতের এই সাইক্লোন ম্যান

13
প্রত্যেকটা ঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন ভারতের এই সাইক্লোন ম্যান

এখন তো সারাবছর ধরেই ঝড়-বৃষ্টি। তাই চাইলেই তাড়াহুড়ো করে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করা যায় না। আগে থেকে সব খোঁজ খবর রেখে তবেই সব কাজের পরিকল্পনা করা ভালো। ঝড় বৃষ্টির খবর আমরা সাধারণত হাওয়া অফিস থেকেই পাই। এখন অবশ্য গুগল এসব জানতে আমাদের কিছুটা হেল্প করে। কিন্তু ধরুন, যদি এই ঝড়-বৃষ্টিরই পূর্বাভাস অনেক আগে থেকেই পাওয়া যেত, তাহলে ব্যাপারটা মন্দ হত না। আর আপনি মনের আনন্দে ঘুরতে যাওয়ারও প্ল্যান করতে পারতেন।

এই কাজটিই দীর্ঘ বছর ধরে করে আসছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র। এই ব্যক্তি ২০০৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেকটা ঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন। তিনি ভারতের সাইক্লোন ম্যান নামেও পরিচিত।

মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র এখনও পর্যন্ত যত ঝড় হয়েছে যেমন – হুদহুদ, মেকুনু, ফাইলিন, তিতলি, ফণী ইত্যাদি নানান ঝড়ের ক্ষেত্রেই আগাম সতর্কতা জারি করেছেন। আর এর জেরে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের ফণী ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্যও তিনি রাষ্ট্রসংঘের তরফে প্রশংসা পেয়েছিলেন।

তবে তাঁর এই কৃতিত্বের জন্য তিনি উন্নত প্রযুক্তিকেই ধন্যবাদ জানান। গত ২৭ বছর ধরে আবহবিজ্ঞানকেই সঙ্গী করে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে, ভারতের আবহবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।তার জ্ঞানের ফলেই ২০০৮ সাল থেকে এভাবেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হচ্ছে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখা।

বঙ্গোপসাগর, আরবসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় এলাকার যে দেশগুলির দ্বারা ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয় তাদের প্রশংসাও কুড়িয়ে নেয় ভারত।

১৯৯২ সালে পুনের আবহ দফতর থেকে মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ওড়িশার বালাসোরে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে কাজ করেন কিছু বছর। ২০০৮ সালে ভারতীয় আবহবিজ্ঞান শাখার আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০১৯ সালে পাঁচ বছরের জন্য তিনি ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। একের পর এক ঝড়ের গতিপথ, গতিবেগ, সময়কাল, সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে দিয়ে আসছেন মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।

তাঁর মতে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া তাদের জন্য একটি বড় ঘটনা ছিল কারণ অন্যান্য এজেন্সি দাবী করেছিল, ফণী ঘণ্টায় ৩৪০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়বে। কিন্তু ভারতীয় আবহবিজ্ঞান দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল ঝড়ের গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার হবে এবং শেষপর্যন্ত সেই গতিবেগেই আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ফণী।