জাতি-ধর্মের বেড়াজালের উর্ধ্বে গড়ে উঠেছে ভারতবর্ষের এই শহর

11
জাতি-ধর্মের বেড়াজালের উর্ধ্বে গড়ে উঠেছে ভারতবর্ষের এই শহর

আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে থাকি যে পৃথিবীতে জাতি-ধর্মের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। জাতের দোহাই দিয়ে একে অন্যকে দূরে সরিয়ে রাখবে না। মানুষ সামাজিক জীব, সকলেই একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে থাকবেন। সমাজের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদই থাকবে না। তবে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সেই নতুন পৃথিবী গড়ে উঠতে এখনো বেশ খানিকটা পথ চলা বাকি।

কিন্তু জানেন কি, জাতি-ধর্মের বেড়াজালের উর্ধ্বে আমাদের এই ভারতবর্ষেই গড়ে উঠেছে এমন একটি শহর যে শহরের মানুষের পরিচয় শুধুই মানুষ। এখানকার বাসিন্দারা জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন, এই সাম্প্রদায়িক বিশ্বের মধ্যে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। এমন ড্রিমল্যান্ডটি রয়েছে তামিলনাড়ুর ভিল্লুপুরম জেলায়, যে শহরের নাম অরোভিল।

এমন শহর গড়ে উঠেছে যার হাত ধরে তিনি একজন বঙ্গসন্তান। যার নামের সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং ঋষি অরবিন্দ ঘোষ। ১৯২৬ সালে যার হাত ধরেই পুদুচেরিতে গড়ে উঠেছিল “শ্রী অরবিন্দ আশ্রম”। তার শিষ্যা মিরা আলফাসার মস্তিষ্ক প্রসূত জনপদ হিসেবেই জন্ম নেয় অরোভিল শহর। যারা জাতি-ধর্ম তুচ্ছ বলে মনে করেন, তাদের বসবাসের জন্যই গড়ে উঠেছিল এই শহর।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে পৃথিবীর ৫০টিরও বেশি দেশের মানুষ অরোভিলে বসতি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে এই শহরের জনসংখ্যা ২ হাজার ৮১৪ জন। অরভিলের বাসিন্দারা কোনো ধর্মের উপাসক নন। তারা সত্যের সেবক। এই শহরটি টাকার বিনিময়ে চলে না। শ্রমের বিনিময়ে শ্রম, এই নীতিতে বিশ্বাসী এখানকার বাসিন্দারা। জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে, সকল সামাজিক স্তরের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই এই শহরের একমাত্র উদ্দেশ্য। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে এই উদ্দেশ্য সফল হয়ে আসছে।