প্লাস্টিকের বিকল্প বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী

43
প্লাস্টিকের বিকল্প বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য অন্যতম একটি কারণ হলো প্লাস্টিক। একইসঙ্গে পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী এই প্লাস্টিক। সহজে ধ্বংস হয় না বলে এই প্লাস্টিক ব্যবহার করার জন্য নিষেধ করে দিয়েছেন সরকার। যদিও বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আমরা সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিক বর্জন করতে পারছিনা। এই অবস্থায় প্লাস্টিক মোড়কে বদলের কথা বললেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী।

এই বাঙালির নাম প্রীতম দেব। তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক প্রীতম দেব তাঁর গবেষণায় জানিয়েছেন, পলিমার থেকে তৈরি যদি করা হয় বিভিন্ন ব্যাগ অথবা ব্যাগ জাতীয় বস্তু, তাহলে সেটি পরিবেশের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। পলিমার ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা যাবে না। এই আবিষ্কারের পেটেন্ট ইতিমধ্যেই তিনি পেয়ে গেছেন এবং আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে খোদ রাস্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার কথা তাঁর।

কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিভিন্ন বিভাগের গবেষণা এবং উৎকর্ষের নিরিখে প্রতিবছর দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি তরফ থেকে একটি ভিজিটর অ্যাওয়ার্ড। এবার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সেরা আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পেতে চলেছেন প্রীতম বাবু। কলকাতার বিজয়গড়ের বাসিন্দা প্রীতম বাবু পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি পোস্ট ডক্টরেট হয়ে তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি এবং এর পর গবেষণা শুরু করে দেন তিনি। এই গবেষণার সুবাদেই তিনি প্লাস্টিকের বিকল্প আবিষ্কার করার জন্য ব্রতী হন। পলিমার দিয়ে তৈরী সমস্ত বস্তু পচনশীল হয় তাই সহজেই মাটিতে মিশে যেতে পারে। এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে, পলিমারের তৈরি মোরকের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী কি বেশিদিন তাজা থাকতে পারে?

এই প্রসঙ্গে প্রীতম বাবু জানিয়েছেন, আবিষ্কারের পরে তেজপুরে স্থানীয় একটি দ্রব্য প্রস্তুতকারী সংস্থা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং তাতে দেখা গেছে, তিন সপ্তাহ পরেও এই মোড়কের ভেতরে খাদ্যদ্রব্য বহুদিন তরতাজা থাকতে পারে। খাবার নষ্টকারী জীবাণু ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে পলিমারের, তাই এটি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।

প্রীতমবাবু আরও দাবি করেছেন, এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে আমূল পরিবর্তন আনতে পারবে জনজীবনে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পপতির প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই প্রীতম বাবুর ল্যাবরেটরীতে এসে সমস্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে গেছেন।