এক সুন্দরীর অপূর্ণ ভালোবাসার সাক্ষী নাকি এই পাথরেরা

6
এক সুন্দরীর অপূর্ণ ভালোবাসার সাক্ষী নাকি এই পাথরেরা

চীনের ইউনান প্রদেশের পাঁচশো বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে এক বিরাট অরণ্য। না, এ কোনো গাছের অরণ্য নয়। এ হল প্রস্তর অরণ্য।আর তাই এই রহস্যময় জঙ্গলের রং কালো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এক বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ডালপালা ছড়িয়ে ছোট বড় অগণিত প্রস্তর-বৃক্ষ মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।

চীনের কুনমিং থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই অঞ্চল। আগে এই অঞ্চলের নাম ছিলো শাইলিন। আর শাইলিন শব্দের অর্থ হল পাথরের জঙ্গল। পুরো অরণ্যটাই চুনাপাথরের। তাই এই জঙ্গলে প্রবেশ করলে তাজা অক্সিজেনের পরিবর্তে শুধুমাত্র চুনাপাথরের গন্ধই নাকে ভেসে আসবে।

গুহার মধ্যে যেমন স্ট্যালাগমাইট গড়ে ওঠে, এই প্রস্তর অরণ্য দেখতে অনেকটা সেরকমই। গাছের মতোই মাটি ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি পাথর।

বিস্ময়কর এই অরণ্য ২৭ কোটি বছরেরও বেশি প্রাচীন। এই প্রস্তর ভূমিরূপ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এসে ভিড় জমান। ফলে অনেক হোটেলও গড়ে উঠেছে। চিনের কুনমিং থেকে বাসে এই স্থানে আসা যায়।

এই অরণ্য ৭টি অঞ্চলে বিভক্ত। দু’টো বিশাল হ্রদ, জলপ্রপাত, প্রাকৃতিক গুহা ইত্যাদি। ২০০৭ সালে এই এলাকার দু’টো অংশ নাইগু প্রস্তর অরণ্য এবং সুওগেয়ি গ্রাম ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষিত হয়।

তবে এই প্রস্তর অরণ্যের সৃষ্টি নিয়ে নানা মতবাদ রয়েছে। এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দারা বলেন, এই প্রস্তর-অরণ্য এক সুন্দরীর অপূর্ণ ভালোবাসার সাক্ষী। অর্থাৎ অশিমা নামে এক তরুণীর ভালোবাসা নাকি পরিণতি পায়নি। তাকে অভিশাপ দিয়ে পাথর করে দেওয়া হয়েছিলো। আর সেই দুঃখেই নাকি বাকি সব গাছ পাথর হয়ে যায়।

তবে ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এখানে এক সময় গভীর জলাশয় ছিলো। আর সেই জলাশয়ের নীচে এই পাথরগুলো নিমজ্জিত ছিলো। ধীরে ধীরে জলস্তর নামতে শুরু করলে জঙ্গলের মতো পাথরগুলোও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সেগুলো এরকম অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে।

প্রতি বছর ষষ্ঠ চন্দ্রমাসের ২৪ তারিখে এই এলাকার বাসিন্দারা এই অরণ্যকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ উৎসব পালন করেন। তাদের লোকনৃত্য এবং কুস্তি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

চীন ছাড়াও তুরস্কে পাথরের এমন বিস্ময়কর জঙ্গল দেখতে পাওয়া যায়। তুরস্কের কাপাডোশিয়ায় ওই পাথরের ভিতরে গুহা তৈরি করে এক সময় মানুষ বসবাস করতেন বলেও জানা গেছে।