মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে এই ছয় প্রজাতির মাছ

107
মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে এই ছয় প্রজাতির মাছ

মাছ ছাড়া বাঙালি, এ যেন কল্পনাই করা যায় না। এহেন মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে মাছের কোনো পদ থাকবে না, তা কি কখনো হয়? সমুদ্র হোক বা নদী, খাল-বিল বা ডোবা, মাছ প্রেমী বাঙালিদের কাছে যে কোনো মাছই অতি প্রিয়। ছোট-বড়-মাঝারি, কোনো মাছের প্রতিই বাঙালির বিরূপতা নেই। বিশেষত, প্রোটিনের পাশাপাশি প্রতিটি মাছের মধ্যেই আরও বেশ কিছু পুষ্টি গুণ থাকে।

কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে মাছের মধ্যেও কিন্তু ভেদাভেদ রাখাই উচিত। কারণ সব মাছের পুষ্টিগুণ সমান হয় না। বিশেষত কিছু কিছু মাছ আবার মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে ভয়াবহ হলো মেথিলমার্কারিযুক্ত মাছ যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, এই মেথিলমার্কারি কিন্তু মহিলাদের ভবিষ্যতে মা হওয়ার পথে বাধা দিতে সক্ষম।

এর মধ্যে রয়েছে বড় সাইজের মাগুর, যেগুলিকে তাড়াতাড়ি বড় করে তোলার জন্য মাছচাষিরা বিভিন্ন হরমোন ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। তাই মাগুর প্রেমী হয়ে থাকলে, বড় সাইজের মাগুরের তুলনায় ছোট সাইজের মাগুর কেনাই বাঞ্ছনীয়। নিষিদ্ধ মাছের মধ্যে অপর মাছটি হল ম্যাকারেল। যার মধ্যে পারদ দেওয়া থাকে। দীর্ঘদিন পারদ যুক্ত ম্যাকারেল মাছ খেলে শরীরে পারদ জমে নানান রোগের উদ্ভব হতে পারে।

ম্যাকারেলের মতই টুনা মাছও বর্জন করাই উচিত। কারণ এতে পারদ ছাড়াও নানান ধরনের হরমোন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। দেশী মাছের মধ্যে তেলাপিয়া অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু সেই তেলাপিয়া মাছের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক ফ্যাট থাকে যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। যার থেকে হৃদযন্ত্রের রোগ হতে পারে। পাশাপাশি হাঁপানি এবং আর্থ্রাইটিস রোগীদেরও তেলাপিয়া মাছ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পাঁকাল মাছ যা জলের মধ্যে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকে, সেগুলিতেও অতিরিক্ত পরিমাণে পারদ মজুত থাকে। তাই পাঁকাল মাছও এড়িয়ে চলাটাই শ্রেয়। নিষিদ্ধ মাছের মধ্যে অপর একটি মাছ হলো পাঙ্গাস মাছ। এই মাছ যে সকল ফার্মে চাষ করা হয় সেখানে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার, কীটনাশক, এমনকি ক্যান্সার উদ্রেককারী বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। তাই চিকিৎসকেরা এই মাছটিকেও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।