প্রশান্ত কিশোরকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে রীতিমত মতানৈক্য সৃষ্টি কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে

21
প্রশান্ত কিশোরকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে রীতিমত মতানৈক্য সৃষ্টি কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে

বিজেপি বিরোধী জোট শক্তির নজরে রাখুন ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন। বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা আলাদা করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক মহলে ক্রমশ নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে তুলছেন এই ভোট কৌশলী। সম্প্রতি শোনা গিয়েছিল এবার কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে নাকি বেশ বড়সড় প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব দেওয়া হতে চলেছে তাকে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিশেষ প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

তবে গোল বেঁধেছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই। দলের বহু নেতাই নাকি এই মুহূর্তে প্রশান্ত কিশোরকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করছেন। অনেকে আবার প্রশান্ত কিশোরকে দলে নিলেও সংগঠনের সম্পূর্ণ ভার তার উপর ছেড়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছেন। অর্থাৎ প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে এখন রীতিমত মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশান্ত কিশোরকে দলে নিলে তার ভূমিকা কী হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য সম্প্রতি দলের তরফ থেকে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন রাহুল গান্ধী।

গত ২২শে জুলাই রাহুলের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই ভারচুয়াল বৈঠকে রাহুল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমল নাথ, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, একে অ্যান্টনি, অজয় মাকেন, আনন্দ শর্মা, হরিশ রাওয়াত, অম্বিকা সোনি, এবং কে সি বেণুগোপাল। এছাড়াও বিগত এক সপ্তাহে রাহুলের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর অন্তত তিনবার বৈঠকে বসেছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই বৈঠকগুলিতেও কংগ্রেস দলের শীর্ষ নেতারা রাহুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে কংগ্রেস দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকেরই প্রশান্ত কিশোরের কাজের পদ্ধতি পছন্দ নয়। তার অবশ্য উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। ২০১৭ সালে রাহুল গান্ধী এবং প্রশান্ত কিশোর একত্রে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় হারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল কংগ্রেসকে। প্রশান্ত কিশোরের কেরিয়ারে এ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের ব্যর্থতাই তার একমাত্র হার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কংগ্রেস নেতারা মনে করেন সেই সময় রাহুলের কিষাণ যাত্রাতে বেশ ভালই ফলাফল মিল ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোট করতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। অতএব প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন তারা।