তেল ভরার ঝামেলা নেই হাওয়া ভরলেই চলবে এই স্কুটার

10
তেল ভরার ঝামেলা নেই হাওয়া ভরলেই চলবে এই স্কুটার

দিন দিন ইলেকট্রিক স্কুটারের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এই স্কুটার ব্যবহারকারীদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার আসল কারণ এই ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব স্কুটারের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম। আর এর জনপ্রিয়তা অধিক বেড়েছিল বছর দুয়েক আগে করোনা মহামারীতে। সেই সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতায়াত করার সুবাদে বহু মানুষই এই স্কুটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে ছিলেন। আর চলতি সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধিতে মানুষ ইদানীংকালে আরও বেশি করে ঝুঁকছে ব্যাটারিচালিত গাড়ির দিকে। আর সেই কারণেই গ্রাহকদের সুবিধার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন কোম্পানি একের পর এক ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে নিয়ে আসছে।

এই প্রতিবেদনের বিষয় একটি একেবারে আলাদা ধরণের ইলেকট্রিক স্কুটার। আলাদা বলার কারণ হল এই যে, এই স্কুটারটি ব্যবহার করলে তেল ভরার ঝামেলা তো থাকবেই না, উল্টে আপনি এটিকে ব্যাগেও ভরে নিতে পারবেন! কি! ব্যাগে স্কুটার! শুনেই অবাক হচ্ছেন তো! আজকালকার অত্যাধুনিক ডিজিটাল যুগে কি হওয়া সম্ভব নয় একবার ভেবে দেখুন তো! কি সবকিছুই সম্ভব মনে হচ্ছে তাই তো! এই স্কুটারটিকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার পর আপনি অনায়াসে সেটি ভাঁজ করে করে নিজের ব্যাগে ভরে নিতে পারবেন। ফলে কোনো জায়গায় স্কুটি পার্ক করার ঝামেলা থাকবে না। তাহলে আর দেরী কিসের! চলুন দেখে নেওয়া যাক কি এমন এই অদ্ভুত স্কুটার!

দুর্দান্ত প্রযুক্তির এই পার্সোনাল স্কুটারটি হল Poimo অর্থাৎ Portable And Inflatable Mobility স্কুটার। এই স্কুটারটি তৈরি করার ক্ষেত্রে সফ্ট রোবোটিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে, যে কারণে এটি অত্যন্ত সফ্ট, নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য, এবং লাইটওয়েট হয়ে উঠেছে। গোটা স্কুটারটির ওজন কমাতে একটি ওয়্যারলেস পাওয়ার সিস্টেম ব্যবহার করেছে নির্মাতা সংস্থাটি। এই ইলেকট্রিক স্কুটারটি তৈরি করা হয়েছে থার্মোপ্লাস্টিক পলিউরিথেনের মাধ্যমে। এই একই উপাদান এয়ারবেড তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, স্কুটারটিতে সামনের ও পিছনের চাকা, ব্যাটারি ইলেকট্রিক মোটর, হ্যান্ডলবার ও ওয়্যারলেস কন্ট্রোলার দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যক্তি খুব সহজেই বসে এই স্কুটিটি চালাতে পারবেন। এটির ওজন মাত্র সাড়ে ৫ কেজি।

ইলেকট্রিক এই স্কুটারটির হাইলাইট ফিচারস্ কি কি চলুন দেখে নেওয়া যাক। স্কুটারটিকে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যাগে ভরে নিতে পারবেন ইউজাররা। এমনকি সমস্ত পার্টস খুলে ফেলার পরেও এই স্কুটারটিকে তার আসল ফর্মে ফিরিয়ে আনতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে। স্কুটারটি চালানোর আগে এতে হাওয়া ভরে নিতে হবে। আবার, এটির পিছনের দিকে একটি ভালভ রয়েছে, যেখান থেকে স্কুটির সব হাওয়া বের করে নিয়ে তাকে অনায়াসে ব্যাগে ভরে রাখতে পারবেন ইউজাররা। এই ইনফ্লেটেবল ইলেকট্রিক স্কুটারটিকে Mercari R4D তৈরি করছে। তবে এই স্কুটারটির দাম কত তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি।