তীর্থক্ষেত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দির ঘিরে বহু জল্পনা! যার রহস্য আজও ভেদ করতে পারেনি বৈজ্ঞানিকেরা

14
তীর্থক্ষেত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দির ঘিরে বহু জল্পনা! যার রহস্য আজও ভেদ করতে পারেনি বৈজ্ঞানিকেরা

ভারতের চার ধাম তীর্থক্ষেত্র গুলির মধ্যে একটি অন্যতম তীর্থক্ষেত্র হলো পুরীর জগন্নাথ মন্দির। বহু জল্পনা বহু গল্প ঘিরে রয়েছে এই মন্দিরকে। শোনা যায় রাজা ইন্দ্রদুম একবার নদীতে স্নান করতে গিয়ে একটি লোহার রড ভেসে আসতে দেখেন। তখন তার মনে হয় তার কানে কানে যেন স্বয়ং বিষ্ণু বলছেন যে এই লোহার রডটি হলো তার হৃদয়। এর পরেই রাজা রডটিকে নদী থেকে তুলে জগন্নাথ মন্দির নিয়ে চলে আসেন এবং সেখানেই সেটিকে রেখে দেন।

মন্দিরের চূড়াতে যে ধ্বজা ওরে সেটি সর্বদাই হাওয়ার বিপরীত দিকে উড়তে থাকে। বৈজ্ঞানিকেরা আজ পর্যন্ত এর কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ২০ ফুট উঁচুতে এক টন ওজনের একটি সুদর্শন চক্র রয়েছে মন্দিরের চূড়ায়। সুদর্শন চক্রের স্থাপত্যেও রয়েছে চমক। সম্পূর্ণ পুরী শহরের যে কোন প্রান্ত থেকেই এই সুদর্শন চক্র দেখা যায়। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো এই মন্দিরের উপর দিয়ে কোনো বিমান কিংবা কোনো পাখিও কোনদিনও উড়ে যায় না।

এই জায়গাটিকে প্রকৃত অর্থেই যেন নো ফ্লাই জোন বলা যেতে পারে। যদিও এই পেছনে কৃত্রিম কোনো হাত নেই। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবেই যেন কোনো এক মন্ত্র বলে এই মন্দিরের উপর দিয়ে কোন পাখি বা বিমান উড়ে যায় না। মন্দিরটি এমন ভাবে বানানো হয়েছে যে, দিনের কোনো সময়েই মাটিতে এর ছায়া পড়ে না। এটি মন্দিরের অদ্ভুত স্থাপত্যের কারণে কিংবা কোনো দৈব শক্তির কারণে, সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ভক্তদের মনে।

মন্দিরের সিংহদ্বারের রয়েছে একটি অদ্ভুত রহস্য। একবার এই সিংহদ্বার অতিক্রম করে মন্দিরে প্রবেশের সময় ঢেউয়ের আওয়াজ শোনা যায়। এরপর মন্দিরে প্রবেশ করার পর ঢেউয়ের আওয়াজ আর শোনা যায় না। পুরীর সমুদ্রের রয়েছে বিশেষ রহস্য। অন্যান্য যেকোনো প্রান্তের সমুদ্রে দিনের বেলা সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে বাতাস ছুটে আসে। সন্ধ্যেবেলায় ঘটে ঠিক উল্টোটা। তবে পুরীতে সমুদ্র সেই নিয়ম মানে না। সেখানে সর্বদাই হাওয়ার গতিবেগ থাকে সারা পৃথিবী থেকে আলাদা।