সুশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পাঁচ টিয়াকে গুরুগৃহে ফেরত পাঠালেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ

19
সুশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পাঁচ টিয়াকে গুরুগৃহে ফেরত পাঠালেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ্যেই চলছে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। লোকজনের বিচার নেই, ছোট বড় জ্ঞান নেই। সামনে যিনিই আসছেন তাকেই এই পাঁচ বন্ধুর কাছ থেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে। জনসমক্ষে এই ধরনের অসভ্য, নোংরা, কটুকথার ব্যবহারের বদলে যাতে এবার শ্রুতিমধুর কিছু ভাষা শিখতে পারে সেই উদ্দেশ্যে লিঙ্কনশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক থেকে গুরুগৃহের উদ্দেশ্যে রওনা দিল পাঁচটি আফ্রিকান টিয়া।

ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের চিড়িয়াখানাতে সম্প্রতি ঠাঁই পেয়েছিল ওই পাঁচটি আফ্রিকান টিয়া। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ভেবেছিলেন, তাদের দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠবেন দর্শক। তবে ভুল ভাঙলো কয়েকদিনের মধ্যেই। এরিক, জেড, এলসি, টাইসন আর বিল্লি যে চিড়িয়াখানার দর্শকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে! ফলে টিয়া দেখতে এসে কটু কথা শুনে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে দর্শকদের।

স্বভাবতই ওই পাঁচটি টিয়াকে নিয়ে বিড়ম্বনার মুখে পড়ে যায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এ ধরনের কটু কথার ব্যবহার তাদের মননে কু প্রভাব ফেলতে পারে। তড়িঘড়ি তাদের আবার ট্রেনিং সেন্টারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। অতএব যতদিন না ভদ্রসমাজে আসার উপযুক্ত হচ্ছে, ততদিন গুরুগৃহে থেকেই শিক্ষা লাভ করবে এরিক, জেড, এলসি, টাইসন এবং বিল্লি।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, এরিক, জেড, এলসি, টাইসন এবং বিল্লি নাকি নিজেদের মধ্যে একত্রিত হলেই নোংরা ভাষায় কথা বলতে শুরু করে! চিড়িয়াখানার কর্তা স্টিভ নিকোলাস জানালেন, পাখিদের এই ধরনের কথোপকথনে দর্শকদের সামনে বেশ বিব্রত বোধ করেন তারা। বিশেষ করে শিশুদের সামনে এই ধরনের কুকথার ব্যবহার একেবারেই অনভিপ্রেত। তাই পাঁচজনকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওই পাঁচ টিয়া সুশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পাঁচজন আলাদা ট্রেইনারের কাছে পৌঁছে গেছে। শিক্ষা সম্পন্ন হলেই, আবারো চিড়িয়াখানায় ফিরে আসবে তারা।