মুসলিম জমিদার দ্বারা প্রচলন হয়েছিলো মালদহের বুড়ি কালীর পুজো

3
মুসলিম জমিদার দ্বারা প্রচলন হয়েছিলো মালদহের বুড়ি কালীর পুজো

পশ্চিমবঙ্গের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন পূজা মন্ডপ। যার পেছনে জড়িয়ে রয়েছে গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো গল্প। মালদহের চাঁচোল রাজার উদ্যোগে বুড়ি কালীর পুজোর প্রচলন হয়েছিলো আজ থেকে বেশ কয়েকশো বছর আগে। মালদার লস্করপুরের কালীপুজো স্থানীয় মুসলিম জমিদার মহসিন আলী এবং হোসেন চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই মন্দিরে পূজিতা হন দেবী কালী। এই পুজো সাধারণের মধ্যে তিন বোনের পুজা নামে পরিচিত। এই কালীমন্দিরে রয়েছে নয়টি কালী প্রতিমা যাদের গঠন প্রায় একই। দেবী প্রতিমার উচ্চতা 18 ফুট। হরিশ্চন্দ্রপুর, মোবারকপুর, রতুয়া লস্করপুর এবং চাঁচোলের 32 কলার কালী সম্পর্কে তিন বোন হিসেবেই পরিচিতা। এদের মধ্যে মোবারকপুরের কালীকে বড় বোন বলা হয়। এই দেবী বুড়ি কালী নামেই পরিচিতা। মণ্ডপে তেমন জাঁকজমক নেই ঠিকই, তবে এই তিনটি কালীবাড়ির পূজা কার্যত সাধারণ মানুষের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।

চাঁচোলের রাজার উদ্যোগে মোবারকপুরে কালী পূজা এবং মেলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় গ্রামবাসীরাই পূজা করে আসছেন। যদিও গত দুই বছরে করোনার কারণে মেলা বন্ধ রয়েছে। এবারও গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেলা হবে না। কালী পূজার পরের দিন থেকে চারদিন মেলা বসে গ্রামে।

খোলা আকাশের নিচে রয়েছে বিশাল মন্দির। আশেপাশের প্রায় 7-8 টি গ্রামের মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন। লক্ষ্মী পূজার পর থেকেই কাঠামোতে মাটি দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। বিশাল আকারের দেবীপ্রতিমা গড়ে তোলা হয়। বিসর্জনের দিন দেবীর জিহ্বায় পায়রার রক্ত দেওয়া হয়। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে দেবীর বিসর্জন দেন।