সম্প্রতি হরপ্পার অধিবাসীদের খাদ্যাভাস নিয়ে একটি তথ্য প্রসঙ্গে সিলমোহর দিলো ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ

9
সম্প্রতি হরপ্পার অধিবাসীদের খাদ্যাভাস নিয়ে একটি তথ্য প্রসঙ্গে সিলমোহর দিলো ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ

ছোটবেলা থেকেই ইতিহাস পড়ার সময় আমরা জেনে এসেছি সিন্ধু সভ্যতা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতার কথা। সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বহু মানুষ হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। আমরা আস্তে আস্তে জানতে পেরেছিলাম যে, তাদের জীবনযাত্রার কথা। জেনে অবাক হয়েছিলাম যে, আমাদের মত সভ্য ভাবেই তারা জীবনযাত্রা অতিবাহিত করত।

সম্প্রতি হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের খাদ্যাভাস নিয়ে একটি তথ্য প্রসঙ্গে সিলমোহর লাগালো ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ রাসায়নিক পরীক্ষা। তারা নিশ্চিত করে বলেন যে, হরপ্পা মহেঞ্জোদারো অধিবাসীরা প্রায় প্রতিদিন মাংস ভক্ষণ করত।

আদিম মানুষদের আমিষ ভক্ষণ নতুন কিছু নয়। আদিম কাল থেকেই মানুষ বন্যপ্রাণী শিকার এর মাধ্যমে তার ক্ষুধা মিটিয়ে ছিল। কিন্তু এই তথ্যেরগুরুত্ব একটু অন্য জায়গায়। যেকোনো আবিষ্কার শুধুমাত্র অনুমানের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ যে সমস্ত তথ্য উদ্ধার করা হয়, তার উপর কিছুটা ভিত্তি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

বর্তমান সময়ে হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যে সমস্ত মাটির পাত্র আবিষ্কার করা হয়েছিল, তার গায়ে কিছু মেদ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই মেদ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করার পর জানা যায় যে এগুলি রান্না করা মাংস।

এসব সমীক্ষাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে কেমব্রিজের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর তরফ থেকে। প্রধান লেখক অক্ষয় সূর্য নারায়ণ জানিয়েছেন যে, এই মেদ পরীক্ষা করে হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা কেমন মাংস খেত তার একটি ধারণা পাওয়া গিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে গাভী, শুকর, মেষ, ছাগলের মত পশু।

এই প্রসঙ্গে সূর্যনারায়ান বলেছেন যে, এখন যেভাবে তেল দিয়ে রান্না করা হয়, হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা একইভাবে রান্না করত। কখনো তেল দিয়ে শুধু মাংস রান্না করা হতো, কখনো আবার শস্য অথবা সবজির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করা হতো।

পাশাপাশি তিনি বলেছেন সিন্ধু সভ্যতার মানুষের রন্ধনশৈলী র কথা। তিনি জানিয়েছেন যে, তখন গ্রাম এবং শহরের জীবনযাত্রার পার্থক্য ছিল। গ্রামের অধিবাসীরা ধাতুর তৈরি পাত্র ব্যবহার করতেন না। তবে রন্ধনশৈলী একই রকম পদ্ধতিতে করা হতো। গ্রাম এবং শহরের মানুষেরা কিভাবে রান্না করতে পছন্দ করতেন, শুধুমাত্র পাত্রের প্রকারভেদ ছিল।