স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী

6
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী

করোনার প্রাক্কালে যেখানে একের পর এক রোগীকে ফিরিয়ে দিয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল, তার ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এনেছিল স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে আপনি যেকোন জায়গায় বিনামূল্যে পরিষেবা পাবেন। দুয়ারে সরকার আপনাকে এনে দিয়েছে এই রকম কিছু সুযোগ-সুবিধা। তবে এখন থেকেই শুরু হয়েছে কিছু সমস্যা। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্বেও বেসরকারি হাসপাতালে কোন পরিষেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ক্ষুব্দ রোগীদের শান্ত করার জন্য সমস্যা সমাধানের পথে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস।

ইতিমধ্যেই একাধিকবার বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা। তবে এবার কোনো বৈঠক নয়, জনসভা থেকে বেসরকারি হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রানাঘাটে জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য সাথী র প্রসঙ্গ উঠেছিল। তখন ক্ষোভের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, এই কার্ড করা হয়েছে সকলের জন্য। কিন্তু যদি বড় হাসপাতাল এরা বলে যে আমরা স্বাস্থ্য সাথী করব না, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এর আগেও আমরা অনেকবার মিটিং করেছি তাদের সঙ্গে, প্রয়োজনে আরো করবো। কিন্তু এই প্রকল্প গ্রহণ করতেই হবে।

এরপর তিনি রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বলেন যে, প্রতিটি জেলায় ছোট ছোট নার্সিংহোম রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে বারবার বলছি, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প গ্রহণ করুন। কোন নার্সিংহোম চিকিৎসা নিতে রাজি না হয়, তাহলে সরকার তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। যদি আপনারা মানুষকে হয়রানি করেন, তাহলে মনে রাখবেন আপনাদের হয়রান করার ক্ষমতা আমাদের কাছে আছে।

এরইমধ্যে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে এর মধ্যে বারবার বিবাদ বেধেছে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকারের মধ্যে। বিজেপি নেতারা অনেকবার অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বঞ্চিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আয়ুষ্মান ভারত এর থেকে অনেক বেশি লাভজনক আমাদের স্বাস্থ্য সাথী।

এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেছেন যে, আয়ুষ্মান ভারতে কেন্দ্র ১০০ টাকার মধ্যে দেয় ৬০ টাকা, কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর অন্তর্ভুক্ত থাকলে ১০০ টাকায় রাজ্য সরকার দেবে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে যেভাবে অন্যায় করছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, তাতে করে আরো একবার এই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্গে কথা বলতে হবে রাজ্য সরকারকে।