জনসংযোগের দিকেই ব্রতী হচ্ছেন তৃণমূল সরকার

8
জনসংযোগের দিকেই ব্রতী হচ্ছেন তৃণমূল সরকার

রাজ্যবাসীর সমস্ত অভাব-অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাংলার ‘দিদি’র কাছে পৌঁছে দিতে উনিশের লোকসভা ভোটের আগে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু হয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই কর্মসূচির অনুকরণে সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন ‘এক ডাকে অভিষেক‘। সেক্ষেত্রেও জনগণ নিজেদের সমস্যার কথা ফোনেই সাংসদকে জানাতেন। এবার তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক (দেবাশিস কুমার এবং অদিতি মুন্সি) আরও বেশি করে জনসংযোগের দিকেই মনোনিবেশের চেষ্টা করলেন। দেবাশিস কুমার হলেন দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারীর বিধায়ক, যিনি চালু করলেন ‘বিধায়ককে বলো’। অন্যদিকে, অদিতি মুন্সি হলেন উত্তর শহরতলি রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রদ যিনি ‘আমার কথা বিধায়কের কাছে’ চালু করছেন। অতএব বোঝাই যাচ্ছে নিজেদের গদি ঠিক রাখতে জনসংযোগের দিকেই বেশি দৃষ্টি দিচ্ছে তৃণমূল।

‘বিধায়ককে বলো’ কর্মসূচির প্রধান কর্তব্য হল অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে আরও নিবিড়ভাবে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া ও মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি প্রকল্পগুলির খবর দেওয়া। এই হেতু বিধায়ক তথা দক্ষিণ কলকাতার জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমার শনিবার জানিয়েছেন এই অত্যাধুনিক পরিষেবায় নাগরিকরা নিজের বিধায়ককে নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ ইত্যাদি সবই জানাতে পারবেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণে ব্রতী হবেন বিধায়ক।

তবে এই কর্মসূচি দেবাশিস কুমারের নয়। প্রথমে বিধানসভার আগে রাসবিহারীতে নাগরিকদের বক্তব্য ও পরামর্শ জানতে ‘ড্রপ বক্স’ চালু করেছিলেন দেবাশিস কুমার। আর এবার উন্নত প্রযুক্তির বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে ‘QR’ কোড দিয়ে কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডেই চালু করছেন ‘বিধায়ককে বলো’। এই কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ন দিন—রাতের যে কোনো সময় বিধায়ককে সরাসরি অভিযোগ বা চাহিদা জানাতে পারবেন। সব ওয়ার্ডে একদিন করে জনতার মুখোমুখি হবেন বিধায়ক। জনগণের সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। তাই সেই কারণেই পুনরায় ফের সব ওয়ার্ডে ২/৩টি বুথ পিছু ‘ড্রপ বক্স’ চালু হচ্ছে।

অন্যদিকে সংগীতশিল্পী বিধায়ক অদিতি মুন্সি চালু করছেন, ‘আমার কথা বিধায়কের কাছে’ কর্মসূচি। সেখানেই উল্লেখ রয়েছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। ৬২৮৯৮৯৬৬৫৮ এই নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করে অভিযোগ বা সমস্যা জানালেই সঙ্গে সঙ্গে অদিতির অফিস থেকে ওই বাসিন্দার কাছে ফোন যাচ্ছে এবং সেই মতো ব্যবস্থাও নিচ্ছেন বিধায়ক। এই কর্মসূচির স্লোগান – “হাতে একটা স্মার্ট ফোন থাকলেই ‘আপনার বিধায়ক আপনার কাছে’, মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা যাবতীয় সরকারি পরিষেবাও হাতের মুঠোয়।”

এপ্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “সামনেই ২১ জুলাই। সেই স্মরণীয় দিনকে মনে রেখে একদিকে যেমন সাবেকি দেওয়াল লিখন ফিরে আসছে। অন্যদিকে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বেশি করে সাধারণ রাজ্য সরকারের জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন।” এবার হয়তো রাজ্যের অন্যান্য তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা জনসাধারণের কল্যাণার্থে ধীরে ধীরে একই পদক্ষেপ নেবেন বলেই আশা করা যায়।