ট্রেনে করে পালাচ্ছিলেন চোর, বিমানে তার আগেই পৌঁছে চোরকে ধরলেন পুলিশ

9
ট্রেনে করে পালাচ্ছিলেন চোর, বিমানে তার আগেই পৌঁছে চোরকে ধরলেন পুলিশ

ঘটনাটি শুনে মনে হবে হয়তো কোনো গল্প পড়ছি অথবা কোনো সিনেমা দেখছি। কিন্তু আদতে তা নয় ঘটনাটি সত্যি বাস্তবে ঘটেছে। ব্যাঙ্গালোরে থেকে চোর মালিকের সিন্ধুক চুরি করে ট্রেনে করে পালাচ্ছিলেন। ব্যাঙ্গালোরে পুলিশ বিমানে করে কলকাতা পৌঁছে তারপর হাওড়ায় চোরকে ধরেছেন। যেমন সিনেমা চিত্রনাট্যে দেখা হয় ঠিক সেরকমই এই ঘটনায় ঘটেছে।

চোর অর্থাৎ কৈলাশ দাস বর্ধমানের বাসিন্দা তিনি কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে রাজেশ বাবু নামক এক ব্যক্তি বাড়ি দেখাশোনা করতেন। কিছুদিন আগে রাজেশ বাবু বাড়িতে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে পরিবারের সবাই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন এবং বাড়ির দিকে খেয়াল রাখতে পারেননা কেউই। সমস্ত দায়ভার এসে পড়ে কৈলাশ দাস এর উপর। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৈলাস মালিকের ইলেকট্রনিক্স সিন্দুক খোলার চেষ্টা করে এবং সমস্ত কিছু গয়না টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে চান।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কৈলাশ সেই ইলেকট্রনিক্স সিন্ধুক খুলতে পারেননা। তাই তিনি গোটা সিদ্ধুক নিয়ে রাজেশ বাবুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তারপর রাজেশ বাবু পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত করতে শুরু করে এই ঘটনার ওপর কিন্তু তার কোনো খোঁজই পাওয়া যাচ্ছিলনা। কারন কৈলাশ পালিয়ে গিয়েছিলেন মাইসুরে, সে সেখানে সিন্ধুক খুলার চেষ্টা করলেও খুলতে পারিনি। কারণ সিন্ধুক খোলার সময় স্ক্রু ড্রাইভার তারমধ্যে আটকে যায়।

তারপর কৈলাস ঠিক করেন তিনি তার স্থানীয় বর্ধমানে চলে যাবেন সিন্দুক নিয়ে। এই সিদ্ধান্তে কৈলাসের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কারণ বর্ধমান যাওয়ার জন্য হাওড়াগামী যশবন্তপুর এক্সপ্রেস ধরেছিলেন কৈলাস। সেই স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ কৈলাশকে শনাক্ত করতে পারেন। তারপর কৈলাসকে ধরার জন্য ব্যাঙ্গালোরের পুলিশ বিমান করে কলকাতা যান এবং হাওড়া এগিয়ে কৈলাসকে হাতেনাতে ধরে। তবে সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে কৈলাশ এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।