করোনা আক্রান্ত ও কর্মহীন পরিবারদের নিজের উদ্দ্যগে বাড়ি বাড়ি খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন এই শিক্ষক

23
করোনা আক্রান্ত ও কর্মহীন পরিবারদের নিজের উদ্দ্যগে বাড়ি বাড়ি খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন এই শিক্ষক

শিক্ষক যখন সমাজ গড়ার কাজে এগিয়ে আসে, তখনই হয়তো এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পজিটিভিটি জেগে ওঠে। সত্যিই তাই শিক্ষকদের কাজই সমাজ গড়া, মানুষ তৈরি করা কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে সম্ভবপর হয়ে উঠছে কোথায়? দীর্ঘ দুই বছর ধরে করোনার জেরে সমস্ত স্কুল বন্ধ পঠন-পাঠন প্রায় বন্ধই বলা চলে, তাই এখন শিক্ষকেরা একরকম বাড়িতে বসেই মাসের-পর-মাস সরকারের থেকে মাইনে নিচ্ছেন।

তবে এরই মাঝে এক ব্যতিক্রম হলেন মৃণাল কান্তি সিংহ তিনি পেশায় রায়গঞ্জ শহরের মহারাজা জগদিশ নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের সহ শিক্ষক। বর্তমানে তিনি তার বেতনের একটি অংশ কর্মহীন ও কোভিদ আক্রান্ত পরিবারের জন্য ব্যয় করছেন, যা নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, কারণ বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই উদ্বিগ্ন ভূপেন হাজারিকার একটি উল্লেখযোগ্য গানের লাইন মনে করিয়ে দেয় তা হল, ” মানুষ মানুষেরই জন্য”।

এখনই বোধহয় সেই পরিস্থিতি যেখানে প্রত্যেকটা মানুষকে অপর মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, একত্রিত হতে হবে, ভরসা জোগাতে হবে, যাতে করে আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে আসতে পারি। তেমনই করোনা আক্রান্ত ও কর্মহীন পরিবারের জন্য খাবার ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। এই লকডাউনে কর্মহীন পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের কাছে আছেন এই শিক্ষক।

এমনকি এই শিক্ষকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী তাকে সম্পূর্ণভাবে এই কাজ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন স্ত্রী রুমকি মোদক বলেন যে স্বামী তার বেতনের ১০০% যদি তিনি এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য ব্যয় করেন তাতেও তার কোনো আপত্তি নেই। তাদের একটি ছোট ব্যবসা আছে সেই ছোট ব্যবসা থেকে যা আয় হবে তা দিয়েই তিনি সংসার চালিয়ে নেবেন এবং মৃণাল বাবু বলেন ,বসে বসে বেতন নিচ্ছে আমরা। তাই সরকার যতদিন আমাদের কোন কাজে লাগাচ্ছে ততদিন বেতনের একটা অংশ তিনি সামাজিক কাজে দান করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন বর্তমানে শিক্ষকদের বেতন মানুষের স্বার্থে খরচ করা প্রয়োজন, সত্যি এহেন শিক্ষক জুড়ি মেলা ভার, সমস্ত সমাজকর্মীরা তার যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন। এভাবে যদি প্রতিটা মানুষ এগিয়ে আসে তাহলে হয়ত আমরা খুব সহজেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব, কঠিন সময় থেকে নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসতে পারবো।