বাবা মার মনের ইচ্ছে পুরন করতে হেলিকপ্টারে বউ নিয়ে আসলেন ছেলে

9
বাবা মার মনের ইচ্ছে পুরন করতে হেলিকপ্টারে বউ নিয়ে আসলেন ছেলে

বাবা মায়েরা রক্ত জল করে মানুষ করেন ছেলে মেয়েকে তাই তাঁদের একটা ইচ্ছে আমাদের সকল ছেলে মেয়ের কাছে শিরোধার্য। অধিকাংশ ছেলে মেয়েই রাখার চেষ্টা করে তাদের বাবা মার মনের ইচ্ছে। আর ঠিক তেমনি এক ছেলেকে তার বাবা মায়ের ইচ্ছের জন্য হেলিকপ্টারে করে বউ আনতে দেখা গেলো। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘর গ্রামে। সেই গ্রামের একটি ছেলে সোহাগ ভূইয়া। সোহাগ কাজ করেন ইটালিতে।

সোহাগের বাবা রফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং তাঁর স্ত্রী বয়স হয়েছে তাঁরা বিয়ে দিতে চান তাঁদের ছেলের। তবে তাঁদের একটাই ইচ্ছে ছিল যেনো তাদের ছেলে তাদের বৌমাকে বিয়ে করে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসে। আর তাই সেই কথা মতোই বৃহস্পতিবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে বিয়ে করতে যান সোহাগ। আর তাতে করেই নববধূকে নিয়ে এসেছেন তিনি। বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূর্ণ করতে বিয়ের আগেই ঢাকা গিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন সোহাগ। আর পুত্রবধূতে হেলিকপ্টারে করে নামতে দেখে আনন্দে চোখে জল এসেছিল রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রীর। সেই দেখে চোখে জল এসেছিল এলাকার বাসিন্দাদেরও।

সোহাগ তার বাবা মার ইচ্ছে রেখেছে তাতে এলাকাবাসীরাও খুব খুশি। তবে হেলিকপ্টারে করে বউ আনার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিয়ের পরে সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসেন রাসেল মিয়া। তাঁর বাবা একজন কৃষক । তাঁরও ইচ্ছা ছিল যে ছেলে তার বউকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসুক। তাই করেন টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বাউসাইদ গ্রামের রাসেল। তাঁর বিয়ে হয় ময়মনসিংহের ভালুকার বাটাজোর গ্রামের মিতু আক্তারের সঙ্গে। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে রাসেলও হেলিকপ্টারে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীকে।

প্রসঙ্গত উল্লখ্য, সোহাগের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন অনেক সন্মানীয় মানুষজন। সোহাগ ভূইয়ার বিয়েতে বরযাত্রী হিসাবে ছিলেন সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, স্থানীয় থানার ওসি ওপ্পেলা রাজু নাহা-ও। সোহাগের মামা লুৎফুর রহমান সরকার এই প্রসঙ্গে জিগ্যেস করলে জানান, ” বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ করেছে আমার ভাগ্নে। এতেই আমি গর্বিত। গ্রামের লোকজনও খুবই খুশি।”