এবার বাতাসের কার্বন টেনে নেবে গগনচুম্বী বহুতল! জেনে নিন

4
এবার বাতাসের কার্বন টেনে নেবে গগনচুম্বী বহুতল! জেনে নিন

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় সদ্যসমাপ্ত হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলন ‘সিওপি২৬’। এই সম্মেলনে গগনচুম্বী বহুতল বানানোর বিরল নকশা পেশ করেছে স্থপতি সংস্থা ‘স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম)’। বহুতল বানানোর এই পরিকল্পনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আরবান সিক্যুইয়া’। সূত্রের খবর, এই সব গগনচুম্বী বহুতল মূলত শহরগুলিতেই বানানো হবে।

আরবান সিক্যুইয়া: রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে যে পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বাতাসে মিশছে, তার ৪০ শতাংশই আসে নগর ও শহরগুলির বিভিন্ন গগনচুম্বী বহুতল ও আবাসন থেকে। আর্থিক নিরাপত্তার সুযোগ গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরে অনেক বেশি বলে। তাই মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের জীবিকার প্রয়োজনে ভিড় করে শহরাঞ্চলগুলিতে। এছাড়া বিশ্বের জনসংখ্যা যে হারে বাড়েছে, তাতে আগামী কয়েক দশকে শহরগুলিতে জনসংখ্যার চাপ আরও অনেক গুণ বেড়ে যাবে বলেই ধারণা। হিসেব বলছে, আগামী চার দশকে ২০৬০ সালের মধ্যে নগর ও শহরগুলিতে মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের ব্যবস্থা করে দিতে আরও ২৩ হাজার কোটি বর্গ মিটার স্থানের প্রয়োজন হবে।

এসওএম-এর পেশ করা নকশার মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের সিওপি-২৬ শীর্ষ সম্মেলনে দেখানো হয়েছে গাছপালার চেয়ে দ্রুত হারে ও অনেক বেশি পরিমাণে কী ভাবে গগনচুম্বী বহুতলগুলি বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে শোষণ করবে। শুধু তাই নয়, কীভাবে এই বিষাক্ত গ্যাসকে কাজে লাগানো যাবে শিল্পে, উন্নয়নের নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে।

এ প্রসঙ্গে এসওএম-এর দাবি, এই গগনচুম্বী বহুতলগুলি এমন বিশেষ কয়েকটি পদার্থ দিয়ে বানানো হবে যাতে একটি গগনচুম্বী বহুতল ফি বছর অন্তত ১ হাজার টন ওজনের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বাতাস থেকে টেনে নিতে পারে। এই পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বাতাস থেকে টেনে নেওয়ার জন্য কম করে সাড়ে ৪৮ হাজার গাছ লাগাতে হত।

এই গগনচুম্বী বহুতলগুলি বানানোর জন্য যে পদার্থগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে তাহল জৈব ইট, হেম্পক্রিট, বায়োক্রিট ও ভারী কাঠ। এছাড়া থাকবে নানা ধরনের শৈবালও। আর এর ফলেই, নির্মাণের সময় বাতাসের বিষ যে পরিমাণে টেনে নেওয়ার প্রযুক্তি এখন চালু রয়েছে, ৬০ বছর পর তা বেড়ে যাবে অন্তত ৪০০ শতাংশ।

কী ভাবে গগনচুম্বী বহুতলগুলি বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নেবে, সে সম্পর্কিত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে।

আর মানুষের উন্নয়নে টেনে নেওয়া এই বিষ কতটা কার্যকর হবে তা দেখে নেওয়া যাক। নতুন পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, বাতাসের বিষ টেনে নিয়ে তাকে শিল্পে, উন্নয়নে কাজে লাগানোর এখনকার প্রযুক্তিগুলির চেয়ে প্রস্তাবিত প্রযুক্তি আরও বেশি দড় হবে। এখনকার প্রযুক্তিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ১২০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে শিল্পে, উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব। প্রস্তাবিত প্রযুক্তিতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে এই সব উন্নয়নের কাজে লাগানো সম্ভব হবে।