মুর্শিদাবাদে উদ্ধার হওয়া রুপোর মুদ্রা সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এর সময়কার

4
মুর্শিদাবাদে উদ্ধার হওয়া রুপোর মুদ্রা সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এর সময়কার

বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব নবাব সিরাজদুল্লাহ রাজধানী মুর্শিদাবাদ। অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়াতে এই মুর্শিদাবাদ বাংলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছিল। এই মুর্শিদাবাদ এই ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাস, সম্প্রতি এক কোদালের আঘাতে বহু বছরের ইতিহাস প্রকাশ্যে এসেছে। পুরসভার জলের লাইনের কাজ চলছিল, আর সেই কারণেই পাইপ বসানোর কাজ চলছিল মাটি খুঁড়ে।

গত মঙ্গলবার সেই মাটি খুড়তে গিয়েই মুর্শিদাবাদ টাকশালে তৈরি মোট ২৮ টি রোপ্য মুদ্রা উদ্ধার হল। মাটি খুড়তে খুড়তে হঠাৎ করেই কোদাল গিয়ে লাগে এক জায়গায়, কৌতুহল বশত সেটা দেখতে গিয়েই অবাক হয়ে যায় সকলে। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার পরিস্রুত পানীয় জলের লাইন বসানোর কাজ চলার দরুন বহু বছরের ইতিহাস মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের আমলে মুর্শিদাবাদের তৈরীর টাকশাল, সেই টাকশালের তৈরী ২৮ টি রুপোর মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে, এগুলো একটি মাটির ঘড়ায় ভরা ছিল, যেটা কোদালের আঘাতে ভেঙে যায় ও উদ্ধার হয় রুপোর মুদ্রা। সেই মুদ্রা জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ এসে উদ্ধার করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই এই মুদ্রা নিয়ে বহু মানুষের বহু কৌতুহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছে কোন রাজত্ত্বকালের এই মুদ্রা? তাছাড়া এর সাথে কোন ইতিহাস জড়িত রয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মুর্শিদাবাদের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কিউরেটর মৌসুমী দেবী। তিনি বলেন, এই সমস্ত মুদ্রা সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এর সময়কার, এই কয়েন গুলির গায়ে পার্শিয়ান ভাষা খোদাই করা। দিল্লির সম্রাটের কয়েন এই মুর্শিদাবাদে উদ্ধার করা হলো যা একটি বিস্ময়কর ঘটনা। মুর্শিদাবাদের টাকশালে এই সমস্ত মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই।।