ইংরেজ আমলের ঐতিহ্য রবিবারের বদলে সোমবার ছুটি থাকে এই স্কুল

13
ইংরেজ আমলের ঐতিহ্য রবিবারের বদলে সোমবার ছুটি থাকে এই স্কুল

আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি রবিবার অর্থাৎ সানডে মানেই হলো ছুটির দিন। এই দিনটা আরো পাঁচটা দিনে থেকে একেবারেই আলাদা। অফিস কাছারি থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ সবকিছুই বন্ধ থাকে এই দিন। কিন্তু জামালপুরের গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয় কিন্তু আর পাঁচটা দিনের মতো রবিবার খোলা থাকে। এই স্কুলের ক্যালেন্ডার রবিবার কোন লাল কালির দাগ দেখতে পাওয়া যায় না। সমস্ত দেশে রবিবার বন্ধ থাকলেও জামালপুরের এই হাইস্কুল কিন্তু খোলা থাকে রবিবার।
এ বিদ্যালয়টি অন্য বিদ্যালয়ের থেকে অনেকটাই আলাদা। 85 বছর ধরে এই বিদ্যালয় রবিবারের বদলে বন্ধ থাকে সোমবার। এইনিয়মটি শুরু হয়েছিল অসহযোগ আন্দোলন থেকে। ইংরেজদের নিয়মানুসারে রবিবার ছুটি না দিয়ে এই স্কুলটি সোমবার ছুটি দিত।

সেই সময়ে দেশের প্রত্যেকটি স্থান স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষা বিদ্রোহের রূপ নিয়েছিল। আমরা সকলেই জানি পিকেটিং থেকে শুরু করে বিদেশী পণ্য প্রত্যাহার সবকিছুই চলেছিল অসহযোগ আন্দোলনের সময়। অসহযোগ আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। সেই সময় এই স্কুলটি চালাতে ইংরেজদের কোন সাহায্য নেয়া হয়নি এবং স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা ও তারা নিজেরা করে নিয়েছিলেন। বেতনের ব্যবস্থা করেছিলেন ভারতমাতার কিছু বীর সন্তান।

ছুটি প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, আমাদের স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২২ সালে ৫ জানুয়ারি। ইংরেজদের নিয়ম মেনে তখন থেকেই রবিবার স্কুল খোলা থাকতো এবং ছুটি থাকত সোমবার।

এই স্কুলের ইতিহাসের অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরিন জানান, একমাত্র এই বিদ্যালয় না, আরো অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তবে পরবর্তী সময়ে সেটি ধরে রাখতে পারেনি তারা। একমাত্র আমাদের বিদ্যালয় অসহযোগ আন্দোলনের সেই রীতি এবং সেই ইতিহাসকে বাঁচিযে রাখতে পেরেছে।

স্কুলের এই ঐতিহ্য নিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কম গর্ব বোধ করে না। গোপালপুর গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামী অবিনাশ চন্দ্র হালদার নিজের জমিতে মাত্র৫ -৬ জনকে নিয়ে স্কুল শুরু করেছিলেন।

বর্তমান স্কুল পরিচালক সমিতির সভাপতি নাসিরুল হক জানান, শিক্ষাবিদ ভূপেন্দ্র নাথ নায়েক পড়াশুনার মাঝখানে এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পাঠ দিতেন। একসময় শিক্ষা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ছিল এই স্কুলে। আজ সময়ের সাথে সাথে স্কুল অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু সেই ঐতিহ্য কখনো ছেদ পড়েনি।

শিক্ষক সমির ঘোষাল জানিয়েছেন, এই স্কুলে শিক্ষকতা করতে পেরে খুবই গর্বিত আমি। এমনকি সোমবার ছুটি থাকার ফলে আমাদের অন্যান্য কাজ করতেও সুবিধা হয়।