এই গ্রামের বাসিন্দারা একে অপরকে শিসের সুরে ডাকেন!

5
এই গ্রামের বাসিন্দারা একে অপরকে শিসের সুরে ডাকেন!

ভারতের এই গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা কাউকে নাম ধরে ডাকেন না। ডাকেন সুরের ভাষায়, ছন্দের ভাষায়। বিশ্বের সেরা তিন গ্রামের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে এই গ্রামটি। এই গ্রামের নাম মেঘালয়ের কংথং। বাইরের আর পাঁচজন একে এই নামেই চেনে।

এই গ্রামের সাবেকি নাম জিঙ্গরই লবেই। এর মানে সুরের গাঁ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মেঘালয়ের এই অপূর্ব সুন্দর পাহাড়িয়া গ্রাম জিঙ্গরই লবেই-এর ঐতিহ্য অনুযায়ী সেখানে নবজাতকের জন্মের এক সপ্তাহের মধ্যে তার মা যে ঘুমপারানিয়া গান গেয়ে ওঠেন সেই অনুযায়ীই নবজাতকের নামকরণ হয়।

শুধু তাই নয় প্রত্যেক মায়ের গলার সুর ভিন্ন ভিন্ন হয়। যাতে সেই সুর অনুযায়ী তাঁর সন্তানকে চিনতে কেউ ভুল না করে। এই সুরই সেই সন্তানের প্রকৃত পরিচয়। মায়েরা ছাড়াও এই গ্রামজুড়ে রয়েছে নানা গানের সুর। সেই সুরগুলি একান্তই তাদের নিজস্ব এবং ভাষা স্থানীয়। প্রত্যেক গ্রামবাসীর দুটি নাম। একটি রোজকার নাম এবং অন্যটি তাঁর মায়ের দেওয়া সুরেলা নাম।

গানের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তাঁদের নাম হয়। যাঁর মা ছোটো করে সুর ধরেছিলেন তাঁর নাম হয় ছোট্টো, আর কারও মা যদি বড় করে সুর ধরেন সন্তানের নামও তেমন বড় হয়। এতে কেউ কিছু মনে করে না। এটাই সেই গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্য। আসলে সুরেলা নামটি হল অনেকটা আমাদের ডাকনামের মতো। রোজকার জীবনে ছোটো নামটিতেই সকলে অভ্যস্ত থাকেন।