পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের

5
পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের

চলতি বছরে বাজার দোকানের দিকে যেন তাকানো যাচ্ছে না। হু হু করে বাড়ছে কাঁচা আনাজ থেকে শুরু করে পাইকারি জিনিসের দাম। তার মধ্যে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে রীতীমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। কে বলে শুধুমাত্র পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে জল বেরোয়? পেঁয়াজ কিনতে গেলেও চোখ দিয়ে জল বেরোয় বৈকি। ঢাকার কাজীপাড়া বাজারে গত বৃহস্পতিবারই যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫৫ টাকা কিলো দরে, শনিবার রবিবার সেই পেঁয়াজ পৌঁছে গেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

এছাড়া ভারত থেকে যে পিয়াজ বাংলাদেশের রপ্তানি হচ্ছে, সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ছিল ৬০ টাকায়।
গত মাসেও কিন্তু ছবিটা একেবারেই ছিল অন্যরকম। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কিলো দরে, আর ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। বাংলাদেশের আকাশছোঁয়া পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসাবে কিন্তু একমাত্র দায়ী করা হয়েছে ভারতকে। ভারতের অতি ভারী বৃষ্টির ফলে মজুদ থাকা সমস্ত পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে নতুন পেঁয়াজ আসতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে ভারত, সেখানে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো আশঙ্কায় রয়েছেন বাংলাদেশের বাসিন্দারা।

এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা পিয়াজ মজুদ রাখতে শুরু করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন যে, গতবছর তাকে কিলো দরে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছিল ২৫০ টাকায়। তাই এ বছর আগে থেকেই পিয়াজ মজুদ করে তিনি দেখে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে, ভারত থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশে উৎপন্ন দেশি পেঁয়াজের দামও উত্তরোত্তর বাড়িয়ে চলেছে বিক্রেতা এবং আড়তদাররা।

গত বছর এ কিভাবে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি শুরু হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছিল সরকার। একইসঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই কারণে বাংলাদেশকে সমূহ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। ফের পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা বলতে হয়েছিল ভারত সরকারের সঙ্গে। কিন্তু চলতি বছরে লকডাউন এবং বন্যা হবার ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রোজগার অনেকটাই কমে গেছে। এরপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজের এই মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু পেঁয়াজ নয় তার পাশাপাশি বাড়ছে চালের মতও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস।