শরীরে করোনার একাধিক উপসর্গ থাকার পরেও কেন রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন?

12
শরীরে করোনার একাধিক উপসর্গ থাকার পরেও কেন রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন?

মারাত্মকভাবে আমাদের উপর আছড়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রত্যেকদিন আমাদের নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আশে পাশের মানুষ যে ভাবে করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাতে করে উত্তরোত্তর ভয় আমাদের বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনা টেস্ট করাচ্ছেন। কিন্তু এবারে মানুষ কিছু নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এতদিন শরীরে করোনাভাইরাস এর উপস্থিতি আছে কিনা বোঝার জন্য পরীক্ষা হলো RT-PCR। কিন্তু এবারে দেখা যাচ্ছে সেই পরীক্ষা দিচ্ছে ভুল রিপোর্ট। কিন্তু শরীরে একাধিক উপসর্গ থাকার পরেও কেন রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন?

করোনাভাইরাস এর দ্বিতীয় ঢেউ তে নতুন কিছু মিউট্যান্ট দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই নতুন মিউট্যান্ট কে চিনতে সক্ষম হচ্ছে না টেস্ট। তাই বারবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে। এই কারণ ছাড়া আরও একটি কারণ আছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শরীরে খুব সামান্য পরিমাণ ভাইরাস বাসা করলেও তা সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঠিক ভাবে লালারসের নমুনা নিতে না পারা গেলেও ভুল রিপোর্ট আসবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাই রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও বিশেষ কিছু উপসর্গের উপর লক্ষ্য রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্ট নেগেটিভ আসা সত্ত্বেও এই রকম কিছু উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকরা আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এইরকম উপসর্গগুলি হলে নিশ্চিত ভাবে ধরে নিতে হবে যে রোগী করোনা আক্রান্ত।

প্রথম উপসর্গ হলো স্বাদ এবং গন্ধ চলে যাওয়া। সবথেকে প্রকট উপসর্গ হিসেবে এটাকে মেনে নেওয়া হচ্ছে। তার আগে এবং পরে জ্বর হতে পারে এবং সেটি দীর্ঘস্থায়ী থাকতে পারে। ওষুধ খেয়েও যখন বার বার জ্বর আসছে অথবা ঠান্ডা লাগছে, তার মানে  করোনা হবার সম্ভাবনা তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি। তাই রিপোর্ট নেগেটিভ সাবধানে থাকতে হবে আপনাদের।

জ্বর ছাড়া ও যদি সারাদিন গলা ব্যথা, ক্লান্তি বোধ করা এবং পেটের সমস্যা থাকে, তাহলে এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান। প্রথম থেকে নিজেকে আইসোলেশন করে রাখুন। আর কি কি উপসর্গ দেখা যাচ্ছে সেগুলোর ওপর নজর রাখুন। অক্সিমিটার কিনে এনে দেখবেন অক্সিজেন কমছে কিনা। তিনদিন পর আরও একবার টেস্ট করিয়ে নিন। তার পরেও যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে এবং আপনার মধ্যে উপসর্গগুলি বর্তমান থাকে, তাহলে একবার সিটি স্ক্যান করিয়ে নিন। তবে তার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।