আতঙ্কে হোলি খেলে না এই গ্রামের মানুষ

8
আতঙ্কে হোলি খেলে না এই গ্রামের মানুষ

রাত পোহালেই সকলে মেতে উঠবে রঙের উৎসবে। মথুরা বৃন্দাবন এর মত বহু জায়গায় গত সপ্তাহ ধরেই শুরু হয়ে গেছে হোলি উৎসব। এই বছর কিছুটা উৎসবে বাধা পড়লেও কিন্তু একেবারে থমকে যায়নি উৎসব। তবে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে কখনোই হোলি খেলা হয় না।। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে হোলি কে ঘিরে এমন একটি আতংক তৈরি হয়েছে যা কোনদিন মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

উত্তর ভারতের সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে ঝাড়খন্ড হোলি উৎসবে মেতে থাকেন মানুষ। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের মধ্যেই রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রাম দুর্গাপুর। এই গ্রামের মানুষজন কখনোই হোলির আনন্দে মেতে থাকেন না। এখানে বসবাসরত প্রবীণ মানুষদের মতে, এই গ্রামে বাস করে প্রায় হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু কেউ কখনো হোলি উৎসব পালন করেনি।

গ্রামবাসীরা মনে করে যে, কোনদিন যদি তারা রং ফেলেন তাহলে দুর্গাপুর গ্রামের নেমে আসবে সমূহ বিপর্যয়। এই ধারণা তাদের মধ্যে চলে আসছি প্রায় 100 বছর ধরে। তাদের ধারণা, এই গ্রামে যদি কেউ হোলি খেলে তাহলে কোন না কোন মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত।

স্থানীয় লোক কথা অনুসারে, এই গ্রামের পত্তন করেছিলেন মহারাজ দুর্গা দেব। সেই সময়ে হোলি উৎসব পালন করা হতো ধুমধাম করে। তবে একদিন এই উৎসবের দিন রাজপুত্রের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে প্রতিবছর এই উৎসবের দিন এই গ্রামে করা অথবা মহামারীর মত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমনকি কাকতালীয়ভাবে রাজা দুর্গা দেবীর মৃত্যু হয়েছে হোলির দিনে। এই খবর শুনে রানী ও সেই দিনই আত্মহত্যা করেন।

গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করে, এই দিনে যদি তারা আনন্দে মাতেন তাহলে রাজার ভূত তাদের গ্রামে সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসবে। তাই কোনভাবেই তারা এই দিন আনন্দে মেতে থাকেন না।

দুর্গাপুর ছাড়াও রাজস্থানী ব্রাহ্মণদের মধ্যে চৌতিশা যশি সম্প্রদায়ের মানুষজন হোলি খেলা পছন্দ করেন না। বহু বছর আগেই এই হোলি খেলার দিন সন্ধ্যায় হোলিকা দহন সময় এক মহিলার শিশুপুত্র আগুনে পুড়ে মারা যায়। একমাত্র শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ওই মহিলা ও আগুনে ঝাঁপ দিয়ে যায়। তবে মৃত্যুর আগে তিনি বলে যান যে, তার সম্প্রদায়ের কোনো মানুষ যেন ভবিষ্যতে হোলি না খেলে। তারপর থেকেই ওই সম্প্রদায়ের মানুষজন হোলি খেলেন না।