ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন

10
ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন

ভোট পরবর্তী সময়ে জায়গায় জায়গায় হিংসার খবর শোনা গিয়েছিল। তখন যে সমস্ত শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সকলকে এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের তরফ থেকে কোচবিহার জেলা শাসককে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও ইতিমধ্যে চিঠি পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি, জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

ওই নির্দেশিকাতে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে যে, নির্দেশ জারি কার্যকর না হয় তাহলে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হবে। এরপর থেকেই কোচবিহার প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ভোটের পর থেকেই বিজেপি সরকার অভিযোগ করেছিলেন যে, কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় এতটাই সন্ত্রাস চলছে যে মানুষ পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এই ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে শিশু সুরক্ষা কমিশনের চিঠিতে ও। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তোলপাড় হয় সমস্ত দলের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যপাল কে ফোন করা থেকে শুরু করে রাজভবনের কাছে অমিত শাহের মন্ত্রকের রিপোর্ট পর্যন্ত সবকিছুই হয়েছে এই সময়। এই সময়ে প্রথম রাজ্যপাল কোচবিহার থেকে নন্দীগ্রাম সমস্ত জায়গা ঘুরে দেখেছেন, তিনিও একই অভিযোগ করেছেন যে, নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসের চিহ্ন স্পষ্ট।

এর মধ্যেই আবার ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের উপর বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন জাতীয় তপশিলি কমিশনের প্রতিনিধিদল। এই সমস্ত কিছুকে কেন্দ্র করে দেশের দুই হাজারের বেশি মহিলা আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে বারবার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে পদক্ষেপ নেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম তারিখ ওই মামলার শুনানি রয়েছে শীর্ষ আদালতে। তার মধ্যেই শিশু সুরক্ষা কমিশনের এই নির্দেশ অত্যাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।