জালিয়াতি করে টাকা হাতানো হয়েছে, টাকা ফেরাতে হবে ব্যাংককেই

7
জালিয়াতি করে টাকা হাতানো হয়েছে, টাকা ফেরাতে হবে ব্যাংককেই

যত দিন যাচ্ছে সমাজে দুর্নীতি, জালিয়াতি বেড়েই চলেছে। জালিয়াতরা এমন কত রকমের ফাঁদ পেতে বসে আছে বোঝা মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের পক্ষে। যেকোনো কাজই এখন অনেক সাবধানতার সঙ্গে করতে হয়। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হয়। কারণ এখন অনেক সময়ই আমাদের ফোনে ফোন আসে এটিএম নিয়ে, বা ব্যাংকের প্রয়োজনে কোনো ওটিপি দিতে বলা হয় এসব একবার দিয়ে ফেললেই সর্বনাশ। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাংক থেকে সব টাকা উইথড্র হয়ে যায়। আর এরকমই ভাবে প্রতারিত হতে দেখা গেলো মুম্বাইয়ের একজন বৃদ্ধের সাথে। ওই ৯১ বছরের বৃদ্ধের প্রায় ১.১৫ লক্ষ টাকা জালিয়াতি হয়ে গেছে।

আসলে বিষয়টা ঘটে প্রায় এক বছর আগে। মুম্বাইয়ের মগনলাল নায়েক বলে একটি বৃদ্ধের ব্যাংক থেকে ২০২০ সালের ২৭ জুলাই তাঁকে জানানো হয় যে, এক দিন আগে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১.১৫ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। আর এটা দেখা মাত্রই ওই বৃদ্ধ ব্যাংক কে জানান যে, এই লেনদেন তিনি করেননি। তখনই বুঝতে পারেন যে, প্রতারিত হয়েছেন। এর পরই ওই দিন ঘাটকোপার থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই সঙ্গে সাইবার ব্রাঞ্চকেও বিষয়টি জানান বৃদ্ধ। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি।

আর তার পরেই ২০২১ সালে তিনি মুম্বইয়ে জেলা উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন। সেখানে তিনি তার অভিযোগ দায়ের করেন। আর এই নিয়ে মামলা শুরু হয় এর পর। এই মামলায় কমিশনে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয় যে, গ্রাহকের ভুলের দায় তারা নেবে না।

কিন্তু কমিশন জানায় যে, জালিয়াতি করে টাকা হাতানো হয়েছে, ফলে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কোনও দায় নেই। তাই ব্যাংককে ওই বৃদ্ধের ১.১৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে এবং পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই বৃদ্ধকে আরও ৩৪ হাজার টাকা দিতে হবে ব্যাঙ্ককে, এমনই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।

তাই টাকা পয়সার ব্যাপারে ব্যাংকের সব নিয়ম জেনে তবেই ব্যাংকিং পরিসেবা নিন। কারণ কোনো ভাবে গ্রাহকের কোনো ভুলে টাকা কেটে নিলে ব্যাংক কোনো দায়ই নেবেন না।