সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠিটা মহিলাদের হাতেই থাকে! জানুন এইসব বিষয়

16
সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠিটা মহিলাদের হাতেই থাকে! জানুন এইসব বিষয়

বিয়ে জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যেটা প্রত্যেকের জীবনেই আসে। এটি একটি পবিত্র সম্পর্ক, যে সম্পর্কের বন্ধনই বিশ্বাস এবং একে অপরের প্রতি সম্মান। সম্পর্ককে তাই আরো মজবুত করে তোলার জন্য মহিলাদের অনেক কিছু আপোষ করে নিতে হয়, যাতে সম্পর্কের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি না হয় আসুন আজকে সেই বিষয়গুলিই আমরা তুলে ধরবো যে ঠিক কি কি বিষয় মেনে চললে একটা সুস্থ স্বাস্থ্যজ্জ্বল সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে আরো অটুট হয়ে উঠতে পারে।

কারণ বিয়ের আগের জীবন এবং বিয়ের পরবর্তী জীবনের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, সেই পার্থক্যটাই আমাদের বুঝে উঠতে হবে। প্রথমেই এটা মাথায় রাখতে হবে একটি মেয়ে ছোট থেকে এক রকম ভাবে বেড়ে ওঠে আর বিয়ের পরে সম্পূর্ণটা পরিবর্তন হয়ে যায়। অন্য একটা পরিবার তাদের মতো করে নিজেকে গড়ে তোলা একটা বড় দিক। তবে তুলনামূলকভাবে বিয়ের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের থেকেই বেশি আশা করা হয়, কারণ বিয়ের পরবর্তী সময়ে মেয়েরাই সংসারের সমস্ত দায়-দায়িত্ব নেবেন বলে মনে করা হয় এবং সংসারের যাবতীয় কাজ সে নিজেই করবে এমনটাই ভাবা হয়। সেই জায়গাটি পূরণ করার দায়িত্ব থাকে মহিলাদেরই তবে দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ সময়ে সেই জায়গাটা পূরণ না হলে তৈরি হয় সমস্যা। সেক্ষেত্রে মহিলাদের অনুসন্ধান করতে হবে ঠিক কোন ভুলের জন্য এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে, জটিলতা তৈরি হচ্ছে সেই সমস্যাটিকে চিহ্নিতকরণ করতে হবে:-

শ্বশুরবাড়ির বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়া : নতুন পরিবার, নতুন জায়গা নতুন মানুষজন তাদের সাথে নানান বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে তাহলেই বাড়ির সকলের ভালো লাগবে এবং স্বামীরও ভালো লাগবে। তাতে নিজের মধ্যেও একটি ভালো লাগা তৈরি হবে সেই বাড়িটিকেও নিজের বলে মনে হবে।

নিজের মত পোষণ করে চলা : এটা সব ক্ষেত্রে কখনো গ্রহণযোগ্য নয় কারণ সংসার জীবনে প্রবেশ করলে সে ক্ষেত্রে সব সময় নিজের মনের মত চলা যায় না। সেখানে মনের বাইরে গিয়েও অনেক কাজ করতে হয়, কারণ সংসারের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা সবারই থাকে।

অকারণের বিষয়গুলি কে নিয়ে ঝগড়া বিবাদ : কথায় আছে একসাথে হাঁড়ি, কলসি থাকলে ঠোকাঠুকি লাগে। সংসারও ঠিক তেমনি, ঝগড়া অশান্তি হতেই পারে তবে সব সময় এই ঝগড়া মনোমালিন্য যে কোন সম্পর্ককে একটি খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে। অতএব এই বিষয়গুলির প্রতি সতর্কতা প্রয়োজন।

বাড়ির বিষয়ে বেশি আলোচনা করা: নিজের বাড়িতে এতগুলো বছর কাটানো ফলে তারাই মেয়েটির মনের অনেক কাছাকাছি থাকে। তবে তাদের সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিয়মিত তুলনা করাটাও মোটেও ভালো অভ্যাস নয়, কারণ স্বামীর পরিবারের মানুষগুলিকেও আপন করে নিতে হয়।

পরনিন্দা পরচর্চা করাঃ বিশেষত শ্বশুরবাড়ি নিন্দা নিজের দাম্পত্য জীবনে ক্ষতি ডেকে আনে, কারণ কথা হাওয়ায় ভাসে তাই কোন না কোন ভাবে ঠিক স্বামীর কানে পৌঁছে গেলে তা নিয়ে বড় রকম সমস্যা হতে পারে। তাই আজই নিজেকে সংশোধন করে নিন।

আশা করা যায় এই সমস্ত পন্থাগুলির অবলম্বন করলে এক সুখী দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্ভব। আর সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠিটা মহিলাদের হাতেই থাকে। তাই নিজের পরিবারের মানুষগুলির প্রতিও যত্নবান হন এবং সেই মানুষগুলিকেও কাছে টেনে নিলে জীবন আরো সুখময় হয়ে ওঠে।