মাটির নিচের জল টগবগ করে ফুটছে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা সাহায্য চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন

4
মাটির নিচের জল টগবগ করে ফুটছে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা সাহায্য চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন

মাটির নিচে অনবরত টগবগ করে ফুটেই চলেছে জল। এমনকি গর্তের মুখে জ্বলন্ত পাটকাঠি ধরলেই দাউ দাউ করে আগুন ধরে যাচ্ছে। এমনই আশ্চর্যজনক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর কল্যাণপুরের  বাসিন্দারা। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে আপাতত ওই এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকার বাসিন্দা নারায়ণচন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে একটি নলকূপ খননের কাজ চলছিল। নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খুঁড়ে গর্ত তৈরি করতেই গর্ত থেকে তীব্র গতিতে জল বেরোতে থাকে। শুধু তাই নয়, নলকূপ থেকে যখন ওই জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় বসানো হয়, তখন পুরনো গর্তে অনবরত টগবগ করে জল ফুটতে শুরু করে। এমনকি গর্তের মুখে জ্বলন্ত পাটকাঠি ধরতেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

ঘটনায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা অবিলম্বে স্থানীয় গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে খবর দেন। পঞ্চায়েত প্রধান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আর দেরি না করে বিডিও, এসডিও এবং পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন। প্রশাসনের তরফ থেকে গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে ওই এলাকায় ঘিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, মাটির তলায় যেভাবে জল ফুটছে এবং গর্ত থেকে আগুন ধরে যাচ্ছে, এর থেকে সারা গ্রামে না আগুন ধরে যায়!

বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সরকারের দাবি, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ভূগর্ভস্থ গ্যাস। তিনি জানিয়েছেন, মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে মিথেনের মতো গ্যাস জমে থাকে। বাতাসের সংস্পর্শে এলেই তা জ্বলে ওঠে এবং প্রচুর উত্তাপের সৃষ্টি করে। এই উত্তাপের কারণেই মাটির তলার জল ফুটছে বলে জানিয়েছেন প্রদীপ বাবু। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, খুব বেশি পরিমাণে গ্যাস নির্গত হলে তা থেকে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অতএব, অবিলম্বে প্রশাসনের তরফ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।