নিমেষেই ছারখার হয়ে গেল বাগবাজারের হাজার বস্তি বাসীর স্বপ্ন

6
নিমেষেই ছারখার হয়ে গেল বাগবাজারের হাজার বস্তি বাসীর স্বপ্ন

মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব স্বপ্ন ছারখার হয়ে গেল বাগবাজারের হাজার বস্তির বাসিন্দা ওই অসহায় মানুষগুলির! ওই বস্তিতেই যারা নিজেদের সাধ্যমতো বসতভিটা গড়ে তুলেছিলেন, তাদের সেই ভিটা কার্যত সম্পূর্ণভাবে গতকালের ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। এখন শুধু বসতভিটার কাঠামো টুকুই পড়ে রয়েছে, ভিতরের সব প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। অসহায় মানুষগুলির মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুও বলতে গেলে নেই।

এখন তারা শুধুই সেই ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে চলেছেন! যদি ওই ছাইয়ের গাদা থেকে সর্বহারা মানুষগুলির এতদিনের জমানো সম্পদের অবশেষটুকুও উদ্ধার করা যায়, এই আশায়। কিন্তু হতাশ হতে হচ্ছে তাদের বারবার। কারণ সর্বহারা মানুষগুলির শেষ সম্বল টুকুও নির্দ্বিধায় গিলে নিয়েছে আগুন। সার্টিফিকেট, সোনা-দানা, কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই! গতকালের বিধ্বংসী আগুনের করাল গ্রাসে চলে গিয়েছে সবই।

সর্বহারা মানুষগুলির শেষ সম্বল বলতে এখন শুধু সরকারের সাহায্য! বাগবাজার ওমেন্স কলেজেই আপাতত মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন তারা। প্রশাসনের তরফ থেকেই আপাতত তাদের খাদ্য ও পানীয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এদিন সকালে প্রত্যেক বস্তিবাসীকে ডিম, পাউরুটি এবং কলা সরবরাহ করছে প্রশাসন। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের জন্য দুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গতকাল রাতেও তাদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

এদিকে কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম অবশ্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন। অনতিবিলম্বেই তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তাতেও পুরনো বসতভিটার মায়া ত্যাগ করতে পারছেন না বস্তিবাসীরা। এক রাতের ব্যবধানেই আজ তারা রীতিমতো পথে এসে দাঁড়িয়েছেন। আগুনের করাল গ্রাসে সর্বস্ব খুইয়েছেন। এই শোক জীবনে কখনো কি ভুলতে পারবেন তারা?