অন্ধ বিশ্বাসের জেরে দিন প্রতিদিন বাড়ছে গাধার মাংসের চাহিদা

7
অন্ধ বিশ্বাসের জেরে দিন প্রতিদিন বাড়ছে গাধার মাংসের চাহিদা

মানুষের অন্ধবিশ্বাস, লোভের বলি হতে হয় নিরীহ সাধারণ পশু-পাখিকে। এই ব্যবস্থা বহু পুরনো। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীতে যত পশুপাখি রয়েছে মানুষের দ্বারা তারা কোন না কোনভাবে নির্মমভাবে অত্যাচারিত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই ব্যবস্থা খুব একটা পাল্টায়নি। বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষের লোভের নজরে রয়েছে গাধার মত একটি নিরীহ প্রাণী।

শুধু অন্ধবিশ্বাসের বশেই সে রাজ্যে গাধা প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। গাধার মাংস নাকি শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। রোগ প্রতিহত করে, এমনকি যৌন ক্ষমতাও বাড়ায়! এমনই অদ্ভুত বিশ্বাসের জেরে দিন প্রতিদিন গাধার মাংসের চাহিদা বাড়ছে অন্ধ্রপ্রদেশে। প্রতিকেজি গাধার মাংসের দর সেখানে ৬০০ টাকা। এক একটি গাধা ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেই রাজ্যে।

এর পেছনে মানুষের অন্ধবিশ্বাস যেমন কাজ করছে, তেমনি টেলিমিডিয়া গুলিরও অবদান কিছু কম নয়। “ক্র্যাক” এর মতো জনপ্রিয় দক্ষিণী ছবিতে দেখা গিয়েছিল শ্রুতি হাসান, রবি তেজার মতো তারকারাও গাধার রক্ত পান করে শক্তি বৃদ্ধি করছেন! ফলে অন্ধবিশ্বাস আরও দ্রুততার সঙ্গে ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি এমনই যে গান্ধার মাংসের চাহিদা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সেই রাজ্য থেকে গাধা প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে।

অথচ ভারতের মতো রাষ্ট্রে গাধার মাংস বিক্রি করা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তা সত্ত্বেও চাহিদা মেটাতে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু থেকে গাধা আমদানি করছে অন্ধপ্রদেশ। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্তে নামে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশম, কৃষ্ণা, পশ্চিম গোদাবরী ও গুন্টুরের মতো জেলা গুলিতেই প্রধানত গাধার মাংসের চাহিদা রয়েছে। যার জেরে চোরাচালান দিন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।