কেন্দ্রের কোষাগারে ঘাটতি অন্তত সাত লক্ষ কোটি টাকা, করোনার উপর দায় চাপালো সরকার

8
কেন্দ্রের কোষাগারে ঘাটতি অন্তত সাত লক্ষ কোটি টাকা, করোনার উপর দায় চাপালো সরকার

করোনার প্রভাব পড়েছে কেন্দ্রের কোষাগারে। চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। যার ফলে কেন্দ্রের কোষাগারে অন্তত সাত লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, চলতি অর্থবছরে ২৪ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল কেন্দ্রের। তবে তা আর পূরণ হলো না। এর প্রধান কারণ অবশ্যই করোনা। করোনার কারণে কেন্দ্রের প্রায় সাত লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই রেকর্ড রাজস্ব আদায় হয়েছে কেন্দ্রের। তবুও লোকসান এড়ানো গেল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষে হিসেব বলছে বছরভর কেবল ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে কেন্দ্রের। একদিকে করোনার দাপট, অপরদিকে লকডাউন এবং তার ফলে দেশের বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবর্ষে অর্থনৈতিক ঘাটতি ৭-৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, লকডাউন চলাকালীন ছয় মাসের মধ্যেই কেন্দ্রের কোষাগারে টান পড়েছে। একদিকে করোনার মোকাবিলায় প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে, অপরদিকে কেন্দ্রের আয় একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় রাজস্ব ঘাটতি অবধারিত, এ প্রায় প্রথম থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। পরিস্থিতিতে বদল আনতে আগামী অর্থবছরে নতুন পরিকল্পনা নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তার বক্তব্য এমনটাই আভাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশের অর্থনৈতিক চিত্র থেকে জানা যাচ্ছে ১৯-২০ অর্থবর্ষের পর থেকেই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে। করোনা মহামারী আক্রমণ চালানোর আগে থেকেই অবশ্য দেশের অর্থনৈতিক গ্রাফ নিচের দিকে নামতে আরম্ভ করেছিল। অতএব অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, দেশের জিডিপি সংকোচনের সম্পূর্ণ দায়ভার করোনার নয়। কেন্দ্রের নীতিও এক্ষেত্রে দায়বদ্ধ।