বিদেশের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ছেড়ে দেশে গরু মোষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই দম্পতি

30
বিদেশের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ছেড়ে দেশে গরু মোষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই দম্পতি

বিদেশের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়েও দেশের মাটির টানে ফিরে এসেছেন ভারতী খুটি এবং রামদে খুটি। বিদেশের জীবনযাত্রার তুলনায় দেশে গরু মোষ পালন করে রোজগার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন তারা। তাইতো উচ্চশিক্ষা লাভের পর বিদেশে গিয়ে চাকরি পেয়েও শেষমেষ ফিরেছেন দেশে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেশে ফেলে রেখে বিদেশে জীবন যাপনের মোহ ত্যাগ করেছেন তারা।

গুজরাতের পোরবন্দরের বাসিন্দা ওই দম্পতি। ২০০৬ সালে লন্ডনে গিয়েছিলেন রামদে। দুই বছর সেখানে কাজ করার পর ভারতীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সেই সময় রাজকোটে এয়ারপোর্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন ভারতী। বিয়ের পরেও তিনি তার পড়াশোনা ছাড়েননি। লন্ডনে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি কোর্স করেন। হিথরো এয়ারপোর্ট থেকে একটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোর্স করে সেখানে কাজ করতে শুরু করেন।

কিন্তু বৃদ্ধ বাবা-মা যে দেশে পড়ে রয়েছেন। তাদের চিন্তাতে সুখে-শান্তিতে বিদেশে পড়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল রামদের পক্ষে। তাই আবার ঘরে ফেরা। বিদেশের চাকরী এবং বিদেশে থাকার মোহ ত্যাগ করে তারা আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে কৃষিকাজ এবং পশুপালনকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। জৈব পদ্ধতি মেনে চাষবাস করতে শুরু করেন তারা।

একইসঙ্গে গরু-মোষ পালন করতে শুরু করেছেন। যাদের দেখভাল করেন ভারতী। এই দম্পতি Live Village Life With Om & Family নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলও খুলে ফেলেছেন। যাতে তাদের জীবনযাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারেন অন্যরা। ইউটিউবে তাদের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

 

 যতই যা-ই হোক, প্রথম বিশ্ব আর তৃতীয় বিশ্বের দেশে জীবনধারার একটা তফাত থাকেই! জীবনযাপনের বেশ কিছু সুবিধা প্রথম বিশ্ব তুলে দেয় তার নাগরিকদের হাতে যা এদেশে এখনও সুলভ নয়। Story: Haresh Suthar

 গুজরাতের পোরবন্দরের ভারতী খুটি এবং রামদে খুটির বর্তমান জীবনযাপনের কাহিনিও ঠিক সেরকম, ছায়াছবির গল্পের মতো, কিন্তু আদতে নিখাদ বাস্তব!

 জানা গিয়েছে যে রামদে ২০০৬ সালে লন্ডনে গিয়েছিলেন, দুই বছর সেখানে কাজ করার পর দেশের মেয়ে ভারতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। ভারতী সেই সময়ে রাজকোটে এয়ারপোর্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন, চলছিল এয়ার হোস্টেস কোর্সের ট্রেনিংও। বিয়ের পরেও কিন্তু ভারতী তাঁর পড়াশোনা ছাড়েননি। বরং রামদের সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি কোর্স শেষ করেন, হিথরো এয়ারপোর্ট থেকে একটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোর্স করে সেখানে কাজ শুরু করেন।

 সব মিলিয়ে দম্পতির জীবন ভালেই কাটছিল! কিন্তু রামদের মনে স্বস্তি ছিল না। দেশে মা-বাবা একা রয়েছেন- সেই চিন্তা তাঁকে বিদেশে সুখে থাকতে দেয়নি। তাই আলোচনার পরে দম্পতি ফিরে আসেন দেশে, কৃষিকাজ এবং পশুপালনের মাধ্যমে শুরু করেন জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস।